নির্বাচনে অনিয়ম বা জালিয়াতির চেষ্টা হলে ভোটকেন্দ্র ঘেরাও করে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে আটকে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ‘প্রিসাইডিং অফিসার একটাকেও বের হতে দেবেন না। দড়ি দিয়ে খুঁটিতে বেঁধে রেখে আমাদের ফোন করবেন। একটা প্রিসাইডিং অফিসারও যেন পালিয়ে যেতে না পারে।’
আজ শনিবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের উদ্যোগে জেলা স্কুল বড় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন সামনে রেখে আয়োজিত এ সভায় তিনি ভোটের অনিয়ম প্রতিরোধে নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘নির্বাচনে যদি টালবাহানা করা হয়, তবে নির্বাচন অফিস ঘেরাও করে দিন-রাত সেখানে বসে থাকবেন। কোনো ভোটকেন্দ্রে যদি প্রিসাইডিং অফিসার বা পোলিং অফিসার সিল মারতে সাহায্য করে, কিংবা ভোট গণনায় দুর্নীতি দেখা যায়—তবে প্রত্যেকটি ভোটকেন্দ্র ঘেরাও করে বসে থাকবেন।’
জনসভায় বিএনপির সমালোচনা করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বিএনপি এই ৭-৮ মাসে লেজেগোবরে অবস্থা তৈরি করেছে। আট মাস না যেতেই চারজন মন্ত্রী-এমপি পদত্যাগ করেছেন। সকালে এক কথা, বিকেলে এক কথা—তাদের মাথা ঠিক নাই! শরীরে ১০২-১০৪ ডিগ্রি জ্বর উঠলে কথাবার্তার তালগোল যেমন ঠিক থাকে না, তাদের অবস্থাও এখন তেমনই দাঁড়িয়েছে।
বিএনপির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে গোলাম পরওয়ার বলেন, সংসদ সদস্যরা পিস্তল নিয়ে নামছেন, মাদক ধরা পড়ছে এবং সরকারের একজন বড় মন্ত্রীর বাড়ির পাশ দিয়ে সব মাদক আসছে। এ ছাড়া ৩০-৪০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়নের কাজ এক মন্ত্রীর ছেলে ও ভাগনেকে দেওয়া হয়েছে। বিএনপি এখন লুটপাটের হাট বসাইছে।
উত্তরবঙ্গে সারসংকট প্রসঙ্গে পরওয়ার অভিযোগ করেন, সারের ডিলার নিয়োগে বিএনপির দলীয় লোকদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, এক পরিবারের ভাই, বন্ধু, চাচা, ভাতিজা ও শালাকে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি নিয়োগে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমরা ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে এর প্রমাণ দিয়েছি, কিন্তু বিএনপি কোনো জবাব দিতে পারেনি।’
একই দিন বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ঠাকুরগাঁও শহরের লা-রোস রেস্টুরেন্টে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন গোলাম পরওয়ার। সেখানে তিনি ঠাকুরগাঁও-১ আসনে জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী দেলোয়ার হোসেনের পক্ষে ভোট চান। এ সময় প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিভিন্ন অভিযোগও তোলেন তিনি।
জনসভায় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ ও মাওলানা আবদুল হালিম, জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দীন, সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলমগীর এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনের প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন বক্তব্য দেন। এ সময় ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েমসহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।