ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় রাতে ঘর থেকে তুলে নিয়ে এক গৃহবধূকে (২২) দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অচেতন অবস্থায় গৃহবধূকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আজ রোববার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম।
হাসপাতাল ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ওই গৃহবধূকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করেন তাঁর বাবা। স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক কলহ ও নির্যাতনের জেরে দীর্ঘদিন ধরে তিনি বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস বৈঠকও হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে ঘরের বাইরে বের হন ওই নারী। এ সময় ওত পেতে থাকা কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাঁর মুখ চেপে ধরে বাড়ির অদূরে একটি ভুট্টাখেতে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয় বলে পরিবারের দাবি।
ভুক্তভোগীর স্বজনরা জানান, নির্যাতনের একপর্যায়ে ওই গৃহবধূ জ্ঞান হারিয়ে ফেললে অভিযুক্তরা তাঁকে মৃত ভেবে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরদিন শনিবার ভোরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে ভুট্টাখেতে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করেন এবং পরিবারকে খবর দেন। পরে সকালের দিকে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী নারীর মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। চিকিৎসকেরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তাঁর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। পরীক্ষার প্রতিবেদন এলে বিস্তারিত জানা যাবে।
এ বিষয়ে বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর থেকেই পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। আমরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেব। অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।’