ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ১ লাখ ৩১ হাজার ৩৩৬ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন। ঘোষিত ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকে মির্জা ফয়সল আমীন পেয়েছেন ২ লাখ ২৭ হাজার ৭৮৯ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় ঐক্য মনোনীত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৪৫৩ ভোট।
আজ বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে স্থাপিত নির্বাচনী ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশনকেন্দ্রে ১৮৫টি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম।
অন্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খাদেমুল ইসলাম হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ২৮৮ ভোট। বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আবদুল আলীম নিজামী বটগাছ প্রতীকে পেয়েছেন ৮৩৬ ভোট এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক ডাব প্রতীকে পেয়েছেন ৪৪৯ ভোট।
এদিকে নির্বাচনে অনিয়ম, জাল ভোট, ভোট কারচুপি ও নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগে আগামীকাল শুক্রবার বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতে ইসলামী।
আজ রাত সাড়ে ৯টার দিকে জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্য মনোনীত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। আগামীকাল বেলা ৩টায় এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে দেলাওয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, ভোট গ্রহণের শুরু থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে জামায়াতের পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। ভোট গণনার সময়ও অনেক কেন্দ্রে তাঁদের এজেন্টদের থাকতে দেওয়া হয়নি। কোথাও কোথাও ফলাফল না দিয়ে ব্যালট বাক্স নিয়ে আসার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
জামায়াতের প্রার্থী আরও অভিযোগ করেন, রাজাগাঁও ইউনিয়নের খড়িবাড়ি হাইস্কুল কেন্দ্রে প্রকাশ্যে ধানের শীষ প্রতীকে সিল মারার প্রতিবাদ করতে গিয়ে তাঁদের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মারধরের শিকার হয়েছেন। পরে প্রশাসনের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করেন বলে জানান তিনি।
এ ছাড়া নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার আগেই বিএনপির প্রার্থীকে ফুলের মালা পরিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া ও মিষ্টি বিতরণের বিষয়টি উল্লেখ করে দেলাওয়ার হোসেন জানান, এতে তাঁদের মনে হয়েছে, ফলাফল আগে থেকেই নির্ধারণ করে রাখা হয়েছিল।
নির্বাচন ঘিরে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলার অভিযোগও করেন দেলাওয়ার হোসেন। তাঁর দাবি, তাঁদের ১৫ থেকে ২০ জন পোলিং এজেন্ট মারধরের শিকার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চারজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অন্যরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, সব কেন্দ্রের ফলাফল হাতে পাওয়ার পর ও আহত নেতা-কর্মীদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে স্থানীয় নেতারা বৈঠকে বসবেন। এরপর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।