হোম > সারা দেশ > ঠাকুরগাঁও

জামায়াতের পরাজিত প্রার্থীর বাসায় ফুল-মিষ্টি নিয়ে হাজির মির্জা ফয়সল

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের পরাজিত প্রার্থীর বাড়িতে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন বিএনপির নির্বাচিত ফয়সল আমীন। ছবি: সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেনের বাড়িতে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন। আজ শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে ঠাকুরগাঁও শহরের হাজীপাড়ায় দেলাওয়ারের বাসায় ফুলের তোড়া নিয়ে যান তিনি। এ সময় দুই নেতা কোলাকুলি করেন, পরস্পরকে মিষ্টিমুখ করান এবং এলাকার উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সৌজন্য সাক্ষাতে দেলাওয়ার হোসেন মির্জা ফয়সল আমীনকে বড় ভাই সম্বোধন করে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হওয়ায় অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে হলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।

দেলাওয়ার বলেন, নির্বাচিত সংসদ সদস্য এখন শুধু বিএনপি বা ধানের শীষের প্রতিনিধি নন, তিনি ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সব মানুষের প্রতিনিধি। তাই দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে সবার নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব তাঁর।

এ সময় নির্বাচনে সহিংসতার অভিযোগ তুলে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, যারা সহিংসতা চালায়, তারা কোনো দলের হতে পারে না; তাদের উদ্দেশ্য বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা। দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের উন্নয়নবঞ্চনা দূর করে ঠাকুরগাঁওকে একটি উন্নত জেলায় পরিণত করতে দলমত-নির্বিশেষে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

জবাবে মির্জা ফয়সল আমীন বলেন, ‘ঢালাও অভিযোগ না করে কোথায়, কী ঘটেছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে জানালে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ক্ষতিগ্রস্ত ও আক্রান্ত ব্যক্তিদের তালিকা দেওয়ার আহ্বান ও প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফয়সল আমীন বলেন, তিনি নিজে ঘটনাস্থলে যাবেন, ঘটনার সত্যতা যাচাই করবেন এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেবেন।

জামানত হারিয়েছেন তিন প্রার্থী

এদিকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে তিনজন জামানত হারিয়েছেন। তাঁরা হলেন—বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. খাদেমুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক।

১৮৫টি কেন্দ্রের প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, আবদুল আলীম নিজামী বটগাছ প্রতীকে ৮৩৬ ভোট, খাদেমুল ইসলাম হাতপাখা প্রতীকে ৩ হাজার ২৮৯ ভোট এবং হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক ডাব প্রতীকে ৪৫০ ভোট পেয়েছেন।

নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, মোট প্রদত্ত ভোটের এক-অষ্টমাংশ ভোট না পাওয়ায় তাঁদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। আসনটিতে মোট প্রদত্ত ভোট ছিল ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৩৩০টি। সে হিসাবে জামানত রক্ষার জন্য প্রত্যেক প্রার্থীকে অন্তত ৪১ হাজার ৬৬৭টি ভোট পেতে হতো।

গতকাল বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী) আসনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। রাত পৌনে ১০টার দিকে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম ফলাফল ঘোষণা করেন।

ঘোষিত প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ধানের শীষ প্রতীকে ২ লাখ ২৭ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৫১৩ ভোট। দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ১ লাখ ৩১ হাজার ৪০৪।

নির্বাচনী এলাকার মোট ভোটার ৫ লাখ ১৫ হাজার ৮৫১ জন। বাতিল ভোট বাদ দিয়ে বৈধ ভোটের সংখ্যা ৩ লাখ ২৯ হাজার ৫টি। অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে ভোট পড়েছে ৬৪ দশমিক ৮১ শতাংশ।

নিখোঁজের ৪ দিন পর ব্যবসায়ীর লাশ মিলল ধানখেতে

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে জামানত খোয়ালেন তিন প্রার্থী

১ লাখ ৩১ হাজার ভোট ব্যবধানে বিজয়ী ধানের শীষ, কাল বিক্ষোভ জামায়াতের

১৫৪ কেন্দ্রের ফলে ১ লাখ ৭ হাজার ভোটে এগিয়ে ধানের শীষ

উপনির্বাচনে ২৬ কেন্দ্রের ফল: ধানের শীষে ২৮ হাজার ভোট, দাঁড়িপাল্লায় ১১ হাজার

ব্যালটে আগাম সিল থেকে জাল ভোট—ঠাকুরগাঁও-১ আসনে জামায়াত প্রার্থীর যত অভিযোগ

ভোটের দিন লিফলেট বিতরণ, জামায়াত নেতাকে দণ্ড

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: বেলা ২টা পর্যন্ত ৫১ শতাংশ ভোট পড়েছে

ভোটকেন্দ্রে জাল ভোটের চেষ্টা, হাতেনাতে ধরা তিন শিক্ষার্থী

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে সংখ্যালঘু নারী ভোটারদের সরব উপস্থিতি