ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে মেয়েকে জোর করে তুলে নিয়ে বিয়ে এবং অপমানে বাবার আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলার ২ নম্বর আসামি বিএনপি নেতা ফরহাদ ওরফে কোম্পানিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার রাতে দিনাজপুর র্যাব-১৩-এর সহযোগিতায় বালিয়াডাঙ্গী থানা-পুলিশ তাঁকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ভেলাজান এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। আজ রোববার দুপুরে তাঁকে ঠাকুরগাঁও আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি বুলবুল ইসলাম।
গ্রেপ্তার হওয়া ফরহাদ ওরফে কোম্পানি (৪০) দুওসুও ইউনিয়ন বিএনপির দপ্তর সম্পাদক। তিনি একই ইউনিয়নের মহিষমারী গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ জানায়, মহিষমারী গ্রামের ব্যবসায়ী আবুল কাসেমের অষ্টম শ্রেণিপড়ুয়া মেয়েকে জোর করে তুলে নিয়ে বিয়ে করেন ফরহাদের ভাই সাইফুল ইসলাম। পরে বিষয়টি জানতে পেরে আবুল কাসেম মেয়েকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনা জানতে পেরে সাইফুল ইসলাম ও তার ভাই বিএনপি নেতা ফরহাদ ১ জুলাই ওই ব্যবসায়ীকে বাড়ির বাইরে এনে শতাধিক লোকের সামনে মারধর করে এলাকা ছাড়া করেন। সামাজিক চাপ ও অপমান সহ্য করতে না পেরে চার দিন এলাকার বাইরে থাকার পর ০৫ জুলাই বেলা ১১টায় নিজ বাড়িতে আত্মহত্যা করেন ব্যবসায়ী আবুল কাসেম।
এ ঘটনায় ওই দিনই বালিয়াডাঙ্গী থানায় সাইফুল ইসলামকে প্রধান আসামি, তার ভাই ফরহাদকে ২ নম্বর আসামিসহ মোট ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ব্যবসায়ীর স্ত্রী লাবণি আক্তার।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বালিয়াডাঙ্গী থানার উপপরিদর্শক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, বাকি আসামিদের ধরতে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।