ঠাকুরগাঁও শহরের এক নারীকে (৩১) ঘরে আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তাঁর সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে। গতকাল রোববার এ ঘটনা ঘটে। আসামি ভুক্তভোগীর ভাইকে ফোন করে ‘লাশ ফেলে দেওয়ার’’ হুমকি দেন। পরে ওই ভাই ও তাঁর বন্ধুরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তালা ভেঙে ওই নারীকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় ওই দিন রাতে মামলার পর পুলিশ অভিযুক্ত প্রধান আসামিকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে। আজ সোমবার ঠাকুরগাঁও বিচারিক আদালতের মাধ্যমে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলা ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৩ বছর আগে আসামির সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীর বিয়ে হয়। তাঁদের ১০ বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। পারিবারিক কলহের জেরে গত বছর তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। এরপর থেকে ওই নারী তাঁর বাবার বাড়িতে ছিলেন।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার দুপুরে অগ্রণী ব্যাংক থেকে চেকবই নিয়ে ফেরার পথে ঠাকুরগাঁও চৌরাস্তা এলাকায় অটোরিকশার জন্য অপেক্ষা করছিলেন ওই নারী। এ সময় তাঁর সাবেক স্বামী অজ্ঞাতনামা আরও দুই সহযোগীকে নিয়ে অটোরিকশাযোগে সেখানে উপস্থিত হন এবং অ্যাসিড নিক্ষেপের হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক তাঁকে তুলে নিয়ে যান। পরে বাড়িতে নিয়ে তাঁকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। সেখানে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ফারুক ভুক্তভোগীর ভাইকে ফোন করে প্রাণনাশের হুমকি দেন। খবর পেয়ে ভুক্তভোগীর ভাই ও তাঁর বন্ধুরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের তালা ভেঙে তাঁকে উদ্ধার করেন। এ সময় অভিযুক্ত আসামি কৌশলে পালিয়ে যান।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেওয়া হয়েছে। ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী ২০০৩)-এর ৯/১১/৩০ ধারায় মামলা করা হয়েছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে এবং অন্য আসামিদের শনাক্তে প্রক্রিয়া চলছে। ভুক্তভোগী নারীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।