টাঙ্গাইলের গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলার দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে গোপালপুর উপজেলার গুলিপেঁচা এবং ভূঞাপুর উপজেলার জগৎপুরা এলাকায় ১৪৪ ধারা কার্যকর করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই আদেশ বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দোকানের বকেয়া টাকা পরিশোধকে কেন্দ্র করে গত ২২ এপ্রিল দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে প্রথম দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেই বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে যায়।
প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে ভূঞাপুর উপজেলার জগৎপুরা গ্রামের বাসিন্দা কালাম তালুকদার (৬৫) নিহত হন। আহত ব্যক্তিদের স্থানীয় হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।
সংঘর্ষ চলাকালে একাধিক বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ১০ থেকে ১১টি বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গরু-বাছুর, গোলার ধান ও বিভিন্ন গৃহস্থালি সামগ্রী লুট করা হয়েছে।
এদিকে গতকাল রাত ৮টার দিকে গোপালপুরের নলিন বাজারেও হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, কয়েকটি দোকানে হামলা চালিয়ে মালপত্র লুট করা হয়েছে। ফলে তাঁরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
গোপালপুরের হেমনগর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শামছুল আলম বলেন, আগের সংঘর্ষের জেরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর জগৎপুরা গ্রামের কয়েক শ লোক লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে গুলিপেঁচা গ্রামে হামলা চালায়। এতে নারী-শিশুসহ অনেকে আহত হয়।
ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুব হাসান বলেন, জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।