টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের গুলিপেঁচা গ্রামে পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় একজন নিহত এবং অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ বিকেলে গুলিপেঁচা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আলিম ফকির (৫০) নিজ বাড়ির পাশের কৃষিজমিতে কাজ করছিলেন। এ সময় গুলিপেঁচা ও ভুঞাপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী জগৎপুরা গ্রামের মধ্যে আগের সংঘর্ষের জের ধরে জগৎপুরা গ্রামের কয়েকজন তাঁকে তুলে নিয়ে যায়।
স্থানীয়দের দাবি, আব্দুল আলিম ফকিরকে মারধর করে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। পরে হেমনগর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ জগৎপুরা থেকে তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়।
এ ঘটনার জেরে গুলিপেঁচা গ্রামের কয়েক ব্যক্তির পাল্টা হামলায় গুরুতর আহত হন জগৎপুরা গ্রামের কালাম তালুকদার (৬৫)। তাঁকে ভুঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
একই দিন সন্ধ্যায় দুর্বৃত্তরা আব্দুল আলিম ফকির ও তার দুই ভাইয়ের বাড়িতে হামলা চালিয়ে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুঞাপুর থানার এসআই মো. আসলাম উদ্দিন জানান, নিহত কালাম তালুকদারের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।
গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন গুলিপেঁচা গ্রামে অগ্নিসংযোগের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাস্থল ও আশেপাশের এলাকায় প্রায় পাঁচ শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে।”