রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার চাচ্ছে রেলকে জনপ্রিয় করে তুলতে, যেহেতু রেলের জনপ্রিয়তা রয়েছে, চাহিদাও রয়েছে। কিন্তু আমাদের সরকার যেভাবে মানুষকে সেবা দিতে চায়, সেই সেবা দেওয়ার জন্য আমাদের যে ধরনের সাপোর্ট দরকার, লোকোমোটিভ ও কোচ দরকার, সেগুলোর সীমাবদ্ধতা রয়েছে।’ আজ শনিবার দুপুরে সিলেট রেলস্টেশন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
হাবিবুর রশিদ বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে কোথাও যদি একটি ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায় বা কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে দীর্ঘ সময়ের জন্য টোটাল শিডিউল বিপর্যয় ঘটে যায়। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আমরা কাজ করে চলছি। আমরা চাই আমাদের সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ সেবা দিতে।’
রেল প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সরকার যেহেতু জনগণের ভোটে নির্বাচিত, সে কারণে জনগণের কাছে আমাদের জবাবদিহি রয়েছে। সেই জবাবদিহির জায়গা থেকে আমাদের চেষ্টায় কোনো কমতি থাকা যাবে না, দায়িত্বে কোনো অবহেলা আমরা মেনে নেব না।’
রেল প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সিলেটের রেলসেবার মানোন্নয়নে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে এবং বন্ধ হওয়া লোকাল ট্রেনগুলো পুনরায় চালু করার বিষয়গুলো আমাদের বিবেচনায় আছে।’
হাবিবুর রশিদ বলেন, ‘আমাদের লোকোমোটিভের সংকট রয়েছে। আমাদের লোকোমোটিভগুলো যেখানে ব্যবহার করা উচিত, সেই ৩০ সিরিজের লোকোমোটিভ ব্যবহার করা হচ্ছে। আমরা কাজ করছি। আমাদেরকে সময় দিতে হবে। কেননা ইচ্ছা করলেই লোকোমোটিভ এক দিনে বৃদ্ধি করতে পারব না।’
সিলেট টু কক্সবাজার ট্রেন চালুর বিষয়ে হাবিবুর রশিদ বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা চালু করতে পারব, এমন কথা দিচ্ছি না। আমাদের লোকোমোটিভ এবং এক্সট্রা কোচের যদি সাপোর্ট পাই এবং চালু করতে পারি, তখন ইনশা আল্লাহ আপনারা সেটা পাবেন। এই মুহূর্তে দিচ্ছি না।’
সিলেটে রেলের জায়গা অবৈধভাবে দখল হয়ে যাওয়ার প্রশ্নে হাবিবুর রশিদ বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে সরকারের তরফ থেকে আমাদের যত ধরনের বেদখল রেলের জমি রয়েছে, সেগুলোকে দখলমুক্ত করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি এবং সেই নির্দেশনাগুলো মাঠপর্যায়ে চলে আসবে। রেলের কোনো সরকারি সম্পত্তি যেই দখল করুক না কেন, তাঁকে সেই জায়গা থেকে উচ্ছেদ করতে হবে। এ ব্যাপারে আমরা খুব কঠোর।’