সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে ৫ ঘণ্টার ব্যবধানে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে একজনের দেহে হাম শনাক্ত হয়েছে। নতুন করে ৫৩ জন হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
মারা যাওয়া তিন শিশু হলো সিলেট নগরের আখালিয়া সুরমা আবাসিক এলাকার আব্দুল মুমিনের আট মাসের শিশুসন্তান মাহদি হাসান, দক্ষিণ সুনামগঞ্জের আসামপুর গ্রামের সুনু মিয়ার ছয় মাসের শিশুসন্তান মুস্তাকিন এবং সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সাত মাস বয়সী শিশু জারা।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, হামের উপসর্গ দেখা দিলে গত মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে মাহদিকে পিআইসিইউ-১-তে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। শিশু মুস্তাকিনকে গত ৩ মে বেলা ২টায় ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়। আর একই হাসপাতালে রাত ১১টায় মৃত্যু হয় শিশু জারার। এর আগে একই দিনে সিলেটের শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সজিবুল ইসলাম নামে এক বছরের আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শিশুটি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিঠাইটিকর গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে।
এ নিয়ে সিলেটে হাম ও হামের উপসর্গে ২৩ জনের মৃত্যু হলো। বর্তমানে সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ২৪১ জন সন্দেহজনক হাম রোগী চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০৪ জন ভর্তি আছে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে।
এদিকে, সিলেটে হামের রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ওসমানী হাসপাতালে অতিরিক্ত একটি শিশু ইউনিট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর মুনীর রাশেদ। শনিবার থেকে ওসমানীর ৩২ নম্বর ওয়ার্ডটি হামের জন্য ডেডিকেটেড করা হয়েছে। বর্তমানে শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালকে হামের জন্য ডেডিকেটেড করা হয়েছে।