প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাবা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত সিলেটের বাসিয়া নদীর খাল পুনঃখননকাজের উদ্বোধন করেছেন। আজ শনিবার (২ মে) দুপুরে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁওয়ে এই খাল পুনঃখননের উদ্বোধন করেন তিনি।
সিলেট ও সুনামগঞ্জের পাঁচ উপজেলার ফসল উৎপাদনে বড় ভূমিকা ছিল নদীটির। এই নদীর গুরুত্ব অনুধাবন করে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তাঁর ‘খাল কাটা কর্মসূচির’ অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন নদীটিকে। ১৯৭৯ সালে তিনি নিজ হাতে খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছিলেন। কিন্তু সে সময়ের সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর আর খনন হয়নি বাসিয়া নদীর। ফলে সময়ের স্রোতে শুধু স্রোত নয়, পানি ও প্রাণহীন হয়ে পড়ে একসময়ের ভরা যৌবনের বাসিয়া। নদী থেকে পরিণত হয় মরা খালে। এবার জিয়াউর রহমানের ছেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে নতুন করে প্রাণ ফিরে পেতে যাচ্ছে বাসিয়া।
বাসিয়া খাল পুনঃখননের উদ্বোধন শেষে এক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনের আগে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম, সারা দেশে খাল খনন কার্যক্রম শুরু করব। আমরা শুরু করেছি। আজ এই বাসিয়া খাল পুনঃখননকাজের উদ্বোধন করলাম। এই খাল খনন শেষে দুই পাড়ে আমরা ৫০ হাজার গাছ লাগাব। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রকৃতির সান্নিধ্য পাবেন। আমরা ফলদ গাছও লাগাব।’
তারেক রহমান বলেন, ‘বাসিয়া পুনঃখনন শেষ হলে সরাসরি ৮০ হাজার কৃষক উপকৃত হবেন। পরোক্ষভাবে উপকৃত হবে আরও অন্তত দেড় লাখ মানুষ। এতে বছরে আরও ৭ হাজার টন অতিরিক্ত খাদ্যশস্য উৎপাদন হবে। আমরা দেশের ৬০ জেলায় খাল খনন শুরু করেছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার গঠনের পাঁচ-সাত দিনের মধ্যে আপনাদের সন্তান মুক্তাদিরকে (শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী) নিয়ে আমি বসেছিলাম। তাঁকে বলেছিলাম, কোথায় কোথায় বন্ধ কলকারখানা আছে তা খুঁজে বের করেন, বন্ধের কারণ বের করেন। সবগুলো আমরা ধীরে ধীরে চালু করব, যাতে আমাদের দেশের বেকার মানুষদের কর্মসংস্থান হয়।’
তারেক রহমান আরও বলেন, ‘দেশের ভেতর যারা শিল্প উদ্যোক্তা আছেন, তাঁদের নিয়ে আমরা বসেছি; যাতে তাঁরা নতুন নতুন কারখানা তৈরি করতে পারেন। এতে আমাদের দেশের ছেলেমেয়রা চাকরি পাবেন। শুধু তা-ই নয়, যেসব দেশের শ্রমবাজার বন্ধ আছে; সেগুলোও আমরা চালু করার ব্যবস্থা করছি। অতিদ্রুতই সেসব দেশে মানুষ যাওয়া আবার শুরু হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, আমরা ফ্যামিলি কার্ড দেব। আমরা তা শুরু করেছি। আমরা কৃষকদের কৃষক কার্ড দেওয়ার কাজও শুরু করেছি। এই কার্ড দিয়ে তাঁরা যেমন সার-কীটনাশক ও বীজ পাবেন, তেমনি কৃষিঋণও পাবেন। এরই মধ্যে আমাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছি।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিলেট সদর উপজেলার মাসুকগঞ্জ বাজার এলাকায় সুরমা নদী থেকে উৎপত্তি বাসিয়া নদীর। এই নদীর প্রায় সাড়ে ২৩ কিলোমিটার অংশ ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে খনন করা হবে। এর ফলে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা, ওসমানীনগর, বিশ্বনাথ ও সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার প্রায় ৯০ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমি চাষাবাদের আওতায় আসবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে এই প্রকল্পে নদীটি প্রায় দেড় থেকে দুই মিটার গভীর করা হবে।