হোম > সারা দেশ > সিলেট

ছোট গ্রামের বড় দুঃখ

জামাল মিয়া, বিশ্বনাথ (সিলেট) 

চারদিকে ফসলি জমি, বাঁশঝাড় ও জঙ্গল। নেই কোনো রাস্তা। যদি কেউ এই গ্রামে যেতে চান, তাহলে এই ঘন জঙ্গল ও কাদা পাড়ি দিয়েই যেতে হবে। এই চিত্র সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার শ্রীমুখ গ্রামের।

এটি কোনো সাধারণ গ্রাম নয়। দেশের সবচেয়ে ছোট গ্রাম এটি। শুধু দেশের নয়, গ্রামটিকে অনেকেই এশিয়ার সবচেয়ে ছোট গ্রাম হিসেবেও আখ্যায়িত করেন।

সিলেটের বিশ্বনাথ সদর উপজেলা থেকে ৯ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত খাজাঞ্চি ইউনিয়ন পরিষদ। এই ইউনিয়নেরই ছোট্ট গ্রাম ‘শ্রীমুখ’। গ্রামের বাসিন্দা মাত্র পাঁচজন। তাদের মধ্যে একজন পুরুষ, তিনজন নারী এবং অন্যজন শিশু। সরকারি গেজেটভুক্ত এই গ্রামটিতে স্বাধীনতার আগে থেকেই বসবাস করে আসছে একটি মাত্র পরিবার।

খাজাঞ্চি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে তেলিকোনা ও পশ্চিম নোয়াগাঁওয়ের মাঝখানেই শ্রীমুখ গ্রামের অবস্থান। ৬০ শতক জায়গাজুড়ে ‘এক ঘর-এক বাড়ি-এক গ্রাম’ খ্যাত শ্রীমুখ গ্রামে এক সময় একটি হিন্দু পরিবারের বসবাস ছিল। ১৯৬৪ সালে দাঙ্গার সময় ওই হিন্দু পরিবার তাদের বাড়িটি বর্তমান বাসিন্দা আলতাফ আলীর পূর্ব পুরুষের কাছে বিক্রি করে অন্যত্র চলে যায়। এরপর থেকে আলতাফ আলীর পরিবার এই বাড়িতেই বসবাস করে আসছে। বর্তমানে আলতাফ আলী সৌদিপ্রবাসী। আর বাড়িতে বসবাস করছেন তাঁর স্ত্রী-কন্যা ও বোনেরা।

গ্রামের একমাত্র পুরুষ সদস্য সৌদিপ্রবাসী আফতাফ আলীর স্ত্রী রাহিমা বেগম সম্প্রতি জানালেন তাঁদের নানা বঞ্চনা, দুর্ভোগ ও দুর্গতির কথা। তাঁদের একমাত্র কন্যা প্রতিদিনই কাদামাটি-পানি পেরিয়ে একটি স্কুলে পড়তে যায়। আর্থিক দুরবস্থার কারণে তাঁদের ব্যবহার করতে হয় কাঁচা শৌচাগার। একমাত্র নলকূপটি নষ্ট থাকায় পান করতে হয় পুকুরের পানি।

শ্রীমুখ গ্রামে মাত্র পাঁচজন সদস্য হওয়ায় তারা পার্শ্ববর্তী পশ্চিম নোয়াগাঁওয়ের পঞ্চায়েতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। ছোট একটি আইল দিয়েই চলাচল করেন বাসিন্দারা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এই গ্রামের লোকজন নৌকা ছাড়া বাড়ি থেকে কোথাও যেতে পারেন না। শুকনো মৌসুমেও তাদের কাদা মাড়িয়ে চলাচল করতে হয়। ফলে গ্রামের বাসিন্দাদের অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। গ্রামটি ছোট্ট হওয়ায় উন্নয়নবঞ্চিত এবং অবহেলিত রয়েছেন বলে অভিযোগ ওই পরিবারটির। এদিকে, গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান একটি নলকূপ দেওয়ার আশ্বাস দেন।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তালুকদার মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, শ্রীমুখের পার্শ্ববর্তী জায়গার মালিকেরা যদি জমি দিয়ে সহযোগিতা করেন, তাহলে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি সঠিক পর্যবেক্ষণ করা হলে আমার ইউপির এ শ্রীমুখ গ্রামটি বিশ্বের সবচেয়ে ছোট গ্রাম হতে পারে। যদি তাই হয় তাহলে ‘শ্রীমুখ’ গিনেস বুকে নাম লেখাবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক সুমন চন্দ্র দাস বলেন, আমি গত কয়েক দিন আগে গ্রামটি পরিদর্শন করেছি। শ্রীমুখ বাংলাদেশ তথা এশিয়ার সবচেয়ে ছোট গ্রাম হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ের লক্ষ্যে কাজ করবে প্রশাসন।

শ্বশুরবাড়ি যাবেন তারেক রহমান, রান্না হচ্ছে চল্লিশ হাঁড়ি আখনি

জাতীয় নির্বাচনের আগে শাকসু না হলে শাবিতে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা

শাকসু নির্বাচন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বুধবার

প্রশাসনের অভিযানে ১০ নৌকা কেটে ধ্বংস

শাকসু নির্বাচনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা

শাকসু নির্বাচনের দাবিতে ফের বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা

১৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পরে মুক্ত শাবি ভিসি, প্রোভিসি

হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে আপিলের রায়ের পরদিনই শাকসু নির্বাচন, সিন্ডিকেটে সিদ্ধান্ত

অবরুদ্ধ শাবিপ্রবির ভিসি ও প্রো-ভিসি, পদত্যাগ দাবি

শাকসু নির্বাচনের দাবিতে আজ রাত ৯টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের আলটিমেটাম