সিলেট সরকারি আলিয়া মাঠে বিএনপির প্রথম নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিম এবং রেজিস্ট্রার সৈয়দ ছলিম মোহাম্মদ আব্দুল কাদিরের বিরুদ্ধে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় আলিয়া মাঠে বিএনপির এই প্রথম নির্বাচনী জনসভা হয়।
শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় আইন-১৯৮৭-এ উল্লেখ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা তাঁর রাজনৈতিক মতামত প্রচার করতে পারবেন না এবং নিজেকে কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত করতে পারবেন না।
জনসমাবেশে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, রেজিস্ট্রারের উপস্থিত হওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়। এ আর আনিস নামে এক শিক্ষার্থী লিখেছেন, ‘নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার হরণ করে বিশ্ববিদ্যালয় খোলা অবস্থায় রাজনৈতিক দলের প্রচারণায় যাওয়া কতটা যৌক্তিক?’
বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও শাকসুর স্বতন্ত্র জিএস প্রার্থী ফয়সাল হোসেন বলেন, ‘এ ধরনের কাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনবিরোধী। আমি মনে করি, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনবিরোধী কাজে সরাসরি জড়িত থাকার কারণে তাঁরা নৈতিকভাবে পরাজিত হয়েছেন।
আমরা শিক্ষার্থীরা এই কর্মকাণ্ডের কারণে বাকরুদ্ধ। যেখানে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো অন্যায় হলে বিচার চাওয়ার কথা, সেখানে তাঁরা নিজেরাই আইনবিরোধী কার্যক্রম করছেন শুধু নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য। সেটা অত্যন্ত দুঃখজনক। জাতি হিসেবে লজ্জিত। জাতি যাঁদের কাছে বিচার দেবে, তাঁরাই অন্যায় করে বেড়াচ্ছেন। আমরা এই ধরনের অপ্রত্যাশিত ও আইনবিরোধী কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বিগ্ন। আমরা মনে করি, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে আগামী দিনে নতুন করে আওয়ামী লীগের মতো ফ্যাসিবাদ তৈরি হচ্ছে।’
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সৈয়দ ছলিম মোহাম্মদ আব্দুল কাদির বলেন, ‘আমরা সবারই দাওয়াতেই অংশগ্রহণ করার চেষ্টা করি। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে দলমত-নির্বিশেষে সবার সহযোগিতার প্রয়োজন আছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিম বলেন, ‘আমরা জাস্ট দর্শক হিসেবে গিয়েছি। আর কিছু না।’
শাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আমি মিটিংয়ে আছি, পরে কল দিয়ো।’