সুনামগঞ্জের হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিবাদে মানববন্ধন হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। আজ রোববার শহরের ট্রাফিক পয়েন্ট এলাকায় হাওর বাঁচাও আন্দোলনের উদ্যোগে এই মানববন্ধন হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, জেলার বিভিন্ন হাওরে অপরিকল্পিত বাঁধের কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ফসল নষ্ট হয়েছে। পাশাপাশি ১২ উপজেলার অধিকাংশ হাওরে অপ্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিয়ে কোটি টাকা লুটপাটের ক্ষেত্র তৈরি করা হয়েছে। গণমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশিত এ-সম্পর্কিত প্রতিবেদন এবং স্থানীয় কৃষকের অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্তপূর্বক অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে হাওরের নদ-নদী, খাল-বিল খননে বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ, সঠিক তদারকি এবং হাওরে অপ্রয়োজনীয় ও প্রাণপ্রকৃতিবিরোধি প্রকল্প বাতিলের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি হাওর ও কৃষকের স্বার্থে বেশ কয়েকটি দাবি জানানো হয় স্মারকলিপিতে।
ইয়াকুব বখ্ত বাহলুলের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সহসভাপতি চিত্তরঞ্জন তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় ও সাংগঠনিক সম্পাদক একে কুদরত পাশা।
আরও বক্তব্য দেন হাওর বাঁচাও আন্দোলন জামালগঞ্জের সভাপতি রফিকুল ইসলাম বিন বারী, ধর্মপাশা উপজেলা সভাপতি মজিবুর রহমান, তাহিরপুর সভাপতি মোরসালিন আহমদ ও বিশ্বম্ভরপুর সভাপতি আব্দুল গনি।
উপস্থিত ছিলেন শান্তিগঞ্জ হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি আবু সাঈদ, জামালগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, জগন্নাথপুরের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান মিয়া প্রমুখ।
মানববন্ধন শেষে একটি প্রতিবাদী মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি দেন হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতারা।