সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় টানা বৃষ্টির ফলে হাওরের কাঁচা ধান ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে ফারুকনগর (কজওয়ে) এলাকায় একত্রিত হয়ে কৃষকেরা নিজ উদ্যোগে ছোট কালভার্ট পরিষ্কার করছেন, যাতে দ্রুত পানি নিষ্কাশন সম্ভব হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার কারণে হাওরের পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে মনাই নদের নাব্যতা সংকট ও জলাবদ্ধতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই হাওরে পানি জমে গিয়ে ফসলের ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। কৃষকদের আশঙ্কা, ফসল রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এ অঞ্চলের কয়েক হাজার হেক্টর বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে বড় ধরনের ক্ষতি হবে।
সাড়ারকোনা গ্রামের কৃষক দুলাল মিয়া বলেন, ‘আমাদের কাঁচা ধান এখনো ঘরে তুলতে পারিনি। এর মধ্যে পানি বাড়তে শুরু করেছে। আমরা নিজেরাই কালভার্ট পরিষ্কার করছি, না হলে সব ধান পানির নিচে চলে যাবে।’
আরেক কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিবছর একই সমস্যা হয়। সময়মতো নদী খনন বা পানি নামার ব্যবস্থা না থাকায় আমাদেরই ক্ষতি হয়। এখন যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ব।’
স্থানীয় কৃষক জালাল মিয়া বলেন, ‘সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকলে ফসল বাঁচানো যাবে না, তাই নিজেরাই কাজ শুরু করেছি। তবে এটি স্থায়ী সমাধান নয়।’
এ বিষয়ে মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও—অতিরিক্ত দায়িত্ব) সঞ্জয় ঘোষ বলেন, ‘কৃষকদের দুর্ভোগের বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে দেখছি। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে কাজ চলছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বিভিন্ন এলাকায় খাল ও নদী খননের উদ্যোগ নিয়েছেন। মনাই নদসহ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ জলাধারগুলো খননের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। আমরা আশা করি, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’