টানা বৃষ্টিতে সিরাজগঞ্জ পৌরসভার ৯, ১০ ও ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় এখনো হাঁটুসমান পানি। কোথাও উঠান ডুবে আছে, কোথাও পানি ঢুকে পড়েছে বসতঘরে। সেই পানির মধ্যেই চলছে রান্না, খাওয়া-দাওয়া। এতে কয়েক শ পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে। ময়লা ও পয়ঃবর্জ্য মিশ্রিত পানি দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকায় ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, কার্যকর ড্রেনেজব্যবস্থা না থাকায় বছরের পর বছর ধরে একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সোমবার ও মঙ্গলবার হোসেনপুর, ডোবাপাড়া, হোসেনপুর বাগানবাড়ি, ধানবান্ধি ও মিরপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ বাড়ির উঠানে হাঁটুসমান পানি জমে আছে। কোথাও সেই পানি ঢুকে পড়েছে ঘরের মেঝেতেও। কয়েকটি পরিবারকে পানির মধ্যেই রান্না করতে দেখা যায়। আবার শিশুরা জমে থাকা পানিতেই সাইকেল পরিষ্কার করছে। কোনো শিশু আবার রাস্তার পানিতে মাছ ধরার চেষ্টা করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে পানি দীর্ঘদিন জমে থাকলে ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ নানা পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শুধু চলাচল নয়, স্বাভাবিক জীবনযাপনও কঠিন হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না। অনেক পরিবার টয়লেট ব্যবহারেও সমস্যায় পড়েছে।
পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. সাদ্দাম বলেন, বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। অনেকের ঘরের ভেতরেও পানি ওঠে। ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে, টয়লেটে যেতে কষ্ট হয়। বিভিন্ন রোগও হচ্ছে। পাঁচ থেকে সাত বছরের বেশি সময় ধরে এই সমস্যা চলছে।
একই এলাকার বাসিন্দা মালা রানী বলেন, রান্না-বান্না, খাওয়া-দাওয়া, গোসল কোনোটাই ঠিকমতো করতে পারছি না। সবাই শুধু ছবি তুলে নিয়ে যায়, কিন্তু সমস্যার সমাধান হয় না।
শাহারিয়ার মাহমুদ নামে আরেক বাসিন্দার দাবি, টানা বৃষ্টিতে অন্তত ১৫০ থেকে ২০০টি পরিবারের বসতঘরে পানি প্রবেশ করেছে। তিনি আরও বলেন, রাস্তাঘাটের পাশাপাশি ঘরের ভেতরেও জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে আমরা একই কষ্ট ভোগ করছি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পৌর এলাকার বাসিন্দা হয়েও প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা পাচ্ছেন না তাঁরা। দ্রুত স্থায়ী ড্রেনেজব্যবস্থা নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের ভাষায়, শুধু আশ্বাস নয়, এবার কার্যকর উদ্যোগ চান।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে রাস্তা-ঘাট ও ড্রেনেজ সমস্যার সমাধান করা হবে।