সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া পৌরসভায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য স্থাপন করা ছয় হাজার গ্রাহক মিটারের মধ্যে তিন হাজারের বেশি চুরির অভিযোগ উঠেছে। পানি সরবরাহ শুরুর আগেই বিপুলসংখ্যক মিটার চুরি হওয়ায় গ্রাহকদের সংযোগ দেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষের দাবি, গত ছয় মাসে মিটার চুরির ঘটনা বেড়েছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিয়েও চুরি ঠেকানো যাচ্ছে না।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, পৌর এলাকার ছয় হাজার মানুষকে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের আওতায় আনতে পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ঘাটিনা নদীর তীরে স্থাপন করা হয়েছে পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্ট। সম্প্রতি প্ল্যান্টটির উদ্বোধন করেন সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম। তবে উদ্বোধনের পরও গ্রাহক পর্যায়ে পানি সরবরাহ শুরু হয়নি।
পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, পৌর এলাকার ছয় হাজার গ্রাহকের জন্য ছয় হাজার পানির মিটার স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু গত এক বছরে তিন হাজারের বেশি মিটার চুরি হয়েছে। এর মধ্যে গত ছয় মাসে চুরির ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে। এতে গ্রাহকদের পানির সংযোগ দিতে সমস্যা হতে পারে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়া হলেও মিটার চুরি বন্ধ হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, পৌরসভার ঘোষগাতী, কাওয়াক ও উল্লাপাড়া এলাকায় মিটার চুরির ঘটনা বেশি ঘটেছে। পানি সরবরাহ শুরুর আগেই বিপুলসংখ্যক মিটার চুরি হওয়ায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
পৌরসভার ঝিকড়া এলাকার বাসিন্দা মাজহারুল ইসলাম, আশরাফুল ইসলাম ও সাজ্জাদ হোসেনসহ কয়েকজন জানান, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য তাঁদের বাড়িতে মিটার স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু পানি সরবরাহ শুরুর আগেই সেগুলো চুরি হয়ে গেছে। এখনো তাঁরা পানি পাননি, এর মধ্যেই মিটার হারিয়েছেন। এতে তাঁরা উদ্বিগ্ন। মিটার চুরি হওয়ায় পানির সংযোগ পেতে সমস্যা হবে কি না, তা নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তাঁরা।
বাসিন্দারা জানান, এ বিষয়ে তাঁরা পৌরসভায় অভিযোগ জানিয়েছেন। দ্রুত মিটার চুরি বন্ধ, চুরি যাওয়া মিটার পুনঃস্থাপন এবং পানি সরবরাহ চালুর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
উল্লাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, পৌরসভা এলাকায় পানির মিটার চুরির বিষয়টি পুলিশ জানতে পেরেছে। চুরি প্রতিরোধে এলাকায় পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে।