‘দুপুরে ঘরের মধ্যে টুকটাক কাজ করছিলাম। হঠাৎ মনে হচ্ছিল–একবার ডান দিকে, পরে আবার বাম দিকে ঢলে পড়ছি। আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে আসি।’ ৫ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরার গৃহবধূ রোকসানা আক্তার ঘটনার এমন বর্ণনা দেন।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল জেলা হওয়ায় এখানে তীব্র ঝাঁকুনি অনুভূত হয়েছে বলে জানান সদর উপজেলার কাটিয়া এলাকার এই গৃহবধূ।
একই এলাকার জাহারুল ইসলাম টুটুল বলেন, ‘দুপুরে মসজিদে জুমার নামাজ পড়ছিলাম। হঠাৎ দোতলা মসজিদটি দোল খাওয়া শুরু করে। আতঙ্কে মুসল্লিরা দ্রুত মসজিদ থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন।’
আজ শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১টা ৫২ মিনিট ২৯ সেকেন্ডে সৃষ্ট এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নে ছিল বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৪; যা রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।
ভূমিকম্পের পরে সাতক্ষীরায় মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। ভূমিকম্পের সময় লোকজন বাড়িঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসে। তবে বিকেলে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জেলার কোথাও কোনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য জানা যায়নি।
জেলার তালা উপজেলাতেও ভূমিকম্পের তীব্র ঝাঁকুনি অনুভূত হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, ভূমিকম্পের সময় অনেকে জুমার নামাজ আদায় করছিলেন। ঝাঁকুনির কারণে মুসল্লিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে দ্রুত মসজিদ থেকে বাইরে বেরিয়ে যান।
মসজিদের মুসল্লি সৈয়দ বাচ্চু হোসেন বলেন, ‘জুম্মা নামাজের শেষ পর্যায়ে হঠাৎ প্রায় ৩০ সেকেন্ড ধরে ভূমিকম্প অনুভূত হয়।’
তবে তালা উপজেলাতেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা আতঙ্কের সৃষ্টি হলেও পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসে।