জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় অঞ্চলের জনগণকে তীব্র তাপপ্রবাহ থেকে সুরক্ষা দিতে দেশে প্রথমবারের মতো “অভিযোজন দুর্গ” চালু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বড়দল আফতাব উদ্দিন কলেজিয়েট স্কুলে এ অভিযোজন দুর্গের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
বড়দল আফতাব উদ্দিন কলেজিয়েট স্কুলের অধ্যক্ষ মো. বাবলুর রহমানের সভাপতিত্বে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু অভিযোজন দুর্গটির উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্র্যাকের জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচির প্রধান আবু সাদাত মনিরুজ্জামান খান।
আবু সাদাত মনিরুজ্জামান খান জানান, বড়দল আফতাব উদ্দিন কলেজিয়েট স্কুল এবং ব্র্যাক এর জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচির যৌথ উদ্যোগে প্রকল্পটি চালু হয়েছে। এর মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চলের প্রচলিত ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আধুনিক আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যুক্ত করে সেগুলোকে তীব্র তাপদাহের সময় জীবন রক্ষাকারী নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করা হবে।
আবু সাদাত মনিরুজ্জামান খান আরও জানান, জলবায়ু পূর্বাভাস অনুযায়ী বাংলাদেশে আগামী দশকগুলোতে তাপপ্রবাহের হার ও তীব্রতা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পাবে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আর্দ্র ও তাপপ্রবাহঝুঁকিপূর্ণ বাংলাদেশের জন্য এটি একটি সময়োপযোগী ও কার্যকর অভিযোজন সমাধান।
অভিযোজন দুর্গটি মূলত পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎ ও শক্তিশালী ব্যাটারি ব্যাকআপের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। তীব্র গরম বা ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটলেও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) কারণে আশ্রয়কেন্দ্রটি শীতল থাকবে। সেখানে বৃষ্টির পানি সংগ্রহ এবং উন্নত শৌচাগারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
স্থানীয় স্কুল কর্তৃপক্ষ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি ও স্বাস্থ্যসেবাকর্মীদের সমন্বয়ে কেন্দ্রটি পরিচালিত হবে। ফলে একদিকে শিক্ষার্থীরা স্বস্তিতে পাঠগ্রহণ করতে পারবে, অন্যদিকে স্বাস্থ্য ও পেশাগত দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিরাও এখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সুরক্ষা পাবেন।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সমগ্র দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এমন ৫,০০০টি অভিযোজন দুর্গ তৈরি করা সম্ভব হলে প্রায় ১০ লাখ ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জীবন রক্ষা করা যাবে বলে মন্তব্য করেন আবু সাদাত মনিরুজ্জামান খান।