রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) প্রতিষ্ঠার ১৮ বছর হলেও প্রতিবছর মহান একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে এখনো নেই স্থায়ী কোনো শহীদ মিনার। প্রতিবছর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে স্থায়ী শহিদ মিনার না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
জানা গেছে, ২০০৮ সালের ১২ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর কাপড় দিয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করে শহীদদের প্রতি সম্মান জানানো হতো। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কাপড় দিয়ে বানানো শহীদ মিনার দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এরপর সম্মান রক্ষার্থে ২০১২ সালে তড়িঘড়ি করে কনক্রিটের অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘শহীদ মিনার শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি আমাদের ইতিহাস ও আত্মত্যাগের স্মারক। প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারিতে অস্থায়ী শহীদ মিনারেই আমাদের শ্রদ্ধা জানাতে হয়। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ মিনার না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। ভাষা আন্দোলনের চেতনা ধারণ করার জন্য শহীদ মিনার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতীক। আমরা চাই, অতি দ্রুত প্রশাসন একটি স্থায়ী শহীদ মিনার স্থাপনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’
এ বিষয়ে বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশে এমন কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই যেখানে শহীদ মিনার নেই। আমাদের প্রতিষ্ঠানে যেহেতু অস্থায়ী আছে, বর্তমান প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই, আমাদেরও একটি স্থায়ী শহীদ মিনার হোক। আমারাও যেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে ফুল দিতে পারি। শহীদের স্মৃতি রক্ষার্থে এইটা দরকার।’ বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, ‘দীর্ঘদিনেও আমাদের একটি স্থায়ী শহীদ মিনার গড়ে ওঠেনি। আমরা মনে করি যে নতুন সরকার এসেছে, নতুন সরকার, নতুন ব্যবস্থাপনা। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি স্থায়ী শহীদ মিনার হবে, এইটা আমরা প্রত্যাশা করি।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী কমলেশ চন্দ্র সরকার বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য যে মাস্টারপ্ল্যান করা হচ্ছে। আমার জানা মতে, শহীদ মিনার সেই প্রজেক্টের অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সেই প্রজেক্ট পাস হলে তবেই এটি হবে। এটির কোনো বরাদ্দ এই মুহূর্তে নেই। বরাদ্দ এলে করা হবে।’