রংপুরের বদরগঞ্জ পৌর ভূমি অফিসের প্রায় ৪ শতক জমি দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে এমদাদুল হক আমিন নামের স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তিনি উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নির্দেশ উপেক্ষা করে পৌর ভূমি অফিস ঘেঁষে ভবনটির নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, পৌর ভূমি কর্মকর্তা বকুল মিয়ার যোগসাজশে ভবনটির নির্মাণকাজ চলছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বকুল বলেন, ‘যোগসাজশের অভিযোগ সঠিক নয়। ভূমি অফিসের জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণ করতে এমদাদুল হককে নিষেধ করা হয়েছিল। তবে এমদাদুল দাবি করেন, তিনি ৯০-এর দশকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে জমিটি লিজ নিয়েছেন। কিন্তু লিজের শর্ত বা সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।’
বকুল মিয়ার দাবি, বিষয়টি উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নজরে আনা হলে তিনি সরেজমিনে পরিদর্শন করে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। এরপরও এমদাদুল সেই নির্দেশ মানছেন না বলে অভিযোগ করেন এই ভূমি কর্মকর্তা।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, বদরগঞ্জ পৌর ভূমি অফিসের পাশেই ভবনটির নির্মাণকাজ চলছে। প্রথম তলার ছাদ ঢালাইয়ের প্রস্তুতি হিসেবে শ্রমিকেরা রড বাঁধাই করছিলেন। এ সময় সেখানে এমদাদুল হককে পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর ছেলে রিফাত দাবি করেন, জমিটি তাঁদের নিজস্ব এবং এর বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। তবে তিনি কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, পৌরশহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ওই জমির মূল্য কোটি টাকার বেশি। দখলে নেওয়া জমিটির ৫০ গজের মধ্যেই উপজেলা ও পৌর ভূমি অফিস রয়েছে। তাঁর দাবি, জমিটি পৌর ভূমি অফিসের হলেও এমদাদুল হক পৌর ভূমি কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন।
বদরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ছামিউল ইসলাম বলেন, ‘আমি উপজেলায় নতুন যোগদান করেছি। অভিযোগ পেয়ে সম্প্রতি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ সময় জমির বৈধ মালিকানা বা লিজের কোনো কাগজপত্র দেখাতে না পারায় নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপরও কাজ চলতে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’