নীলফামারী জেলা প্রশাসক (ডিসি) কার্যালয়ের অফিস সহকারী আব্দুস সাদিকের ঘুষের টাকা নেওয়ার ঘটনায় এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার রাতে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমানকে তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নীলফামারী জেলা প্রশাসক পঙ্কজ ঘোষ। এদিকে অভিযুক্ত সাদিককে জুডিশিয়াল মুন্সিখানা (জেএম) শাখার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে লাইব্রেরি শাখায় সাময়িক বদলি করা হয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় শুনানি গ্রহণ করেন। এতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের জুডিশিয়াল মুন্সিখানা (জেএম) শাখার সহকারী কমিশনার মো. নাহিদুল হক, অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মো. আব্দুস সাদিক, মো. শফিকুল ইসলাম, মো. ফাহিম রাব্বি, সাধারণ শাখার অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মো. আনোয়ারুল ইসলাম, জারীকারক মো. আফতাব উদ্দিন, অফিস সহায়ক মো. মোশারফ হোসেন, দক্ষিণ দেশীবাই রাজারহাট কাবানী রহমানিয়া নূরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসার সভাপতি মো. ওয়াহিদুর রহমান ও স্থানীয় সাংবাদিক আব্দুল মালেকের জবানবন্দি গ্রহণ করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।
চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমাকে এ ঘটনায় তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিধি মোতাবেক তদন্ত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে জেলা প্রশাসক বরাবর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।’
জেলার জলঢাকা উপজেলার দক্ষিণ দেশীবাই রাজারহাট কাবাদি রহমানিয়া নূরানি ও হাফিজিয়া মাদ্রাসার উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানের অনুমতির জন্য জেলা প্রশাসক (ডিসি) কার্যালয়ের জেএম শাখায় আবেদন করেন মাদ্রাসার সভাপতি মো. ওয়াহিদুর রহমান। তবে অনুমতির কাগজটির জন্য অফিস সহকারী আব্দুস সাদিক মাদ্রাসা সভাপতির কাছে টাকা দাবি করেন। পরে স্থানীয় সাংবাদিক আব্দুল মালেক কাগজটির জন্য গেলে তাঁর কাছেও টাকা চান সাদিক। ওই সাংবাদিক সেই দৃশ্য ভিডিও করে রাখেন।
পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি নিয়ে পুরো জেলায় তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়।