হোম > সারা দেশ > রংপুর

পানিতে ডুবেছে আলুখেত লোকসানের শঙ্কায় কৃষক

শিপুল ইসলাম, রংপুর 

বৃষ্টির পানি জমেছে আলুখেতে। বালতি দিয়ে সেই পানি সেচেন এক কৃষক। গতকাল রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ফকিরপাড়া গ্রামে। ছবি: আজকের পত্রিকা

গত বছরের লোকসান কাটিয়ে উঠতে এবার বেশি জমিতে আলু চাষ করেছিলেন রংপুরের কৃষকেরা। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে জেলার অনেক এলাকার উঠতি আলুর খেত পানিতে তলিয়ে গেছে। খেতেই নষ্ট হচ্ছে একরের পর একর জমির আলু। এতে নতুন করে লোকসানের শঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাজারো কৃষক।

গতকাল বৃহস্পতিবার রংপুরের বিভিন্ন উপজেলার অন্তত ১৫টি মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, একরের পর একর আলুর জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়ে আছে। কোথাও কৃষকেরা বালতি ও ডোল দিয়ে জমি থেকে পানি সেচে বের করার চেষ্টা করছেন, আবার কেউ কেউ কাদামাটি আর পানির মধ্যেই আলু তুলে সড়কের ধারে শুকাচ্ছেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার ও গতকাল মিলিয়ে রংপুরে মোট ৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। রংপুর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার জেলায় ৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী তিন থেকে চার দিন রংপুর অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

রংপুর কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৫৩ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে চাষ হয়েছে ৫৪ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে। বর্তমানে আলু উত্তোলনের মৌসুম চলছে এবং এ পর্যন্ত প্রায় ৫২ শতাংশ আলু উত্তোলন হয়েছে।

তারাগঞ্জ উপজেলার ফকিরপাড়া গ্রামের কৃষক নূর আলম জানান, গত বছর আলু চাষে প্রায় ২ লাখ টাকা লোকসান হয়েছিল। এবার সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এক একর জমিতে আলু চাষ করেছিলেন। বৃহস্পতিবার তাঁর আলু তোলার কথা ছিল। কিন্তু রাতের বৃষ্টিতে পুরো খেত পানিতে তলিয়ে যায়।

দোলাপাড়া মাঠে দাঁড়িয়ে আক্ষেপ করে নূর আলম বলেন, ‘ভাই, মনে হয় এবার ফকির হয়ে যাব। বৃহস্পতিবার আলু তোলার জন্য মানুষ নিয়েছিলাম। সেই মানুষ দিয়েই সকাল থেকে পানি সেচছি, তবু পানি শেষ হচ্ছে না। আল্লায় জানে এই আলু আর পাব কি না। কেজিতে উৎপাদন খরচ পড়েছে ১৬ টাকা, কিন্তু ১০ টাকায়ও কেউ নিতে চায় না।’

পাশের পোদ্দারপাড়া মাঠে ইকরচালী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মিলন রহমান শ্রমিক নিয়ে ডুবে যাওয়া আলুর খেত থেকে পানি বের করার চেষ্টা করছিলেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার পাঁচ একর জমির আলু ডুবে গেছে। শনিবার থেকে আলু তোলার কথা ছিল। পাঁচজন মানুষ নিয়ে এখন পর্যন্ত দুই একর জমির পানিই বের করতে পারিনি। এমনিতেই আলুর দাম নাই, তার ওপর এই অবস্থা হলে আমাদের মতো চাষিদের মরণ ছাড়া উপায় থাকে না।’

অন্তত ৩০ জন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে ১৪ থেকে ১৬ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে বাজারে ৯ থেকে ১০ টাকা দরে আলু বিক্রি হলেও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। তার ওপর টানা বৃষ্টিতে খেত পানিতে ডুবে যাওয়ায় অনেক আলু নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আলুখেতে যে বৃষ্টির পানি জমেছে, তা এমনিতে নেমে যাবে, ধরে রাখার মতো না। যারা আলু উত্তোলন করছিল তারা থেমে যাবে, আকাশের অবস্থা দেখে আলু তুলবে। দীর্ঘ সময়ে বৃষ্টি হলে উঠতি আলুর ক্ষতি হতে পারে।’

জনবল-সংকটে ধুঁকছে চৈত্রকোল ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র

নির্বিচারে মেহগনিগাছ কর্তন, ক্ষোভের মুখে স্থগিত

তামাক সেবনে প্রতি ঘণ্টায় মারা যায় ১৮ জন

ভোরে অগ্নিকাণ্ডে তারাগঞ্জে তিন দোকান পুড়ে ছাই

ইফতার না পেয়ে বেরোবির শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ, উপাচার্যের দুঃখপ্রকাশ

গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়া যুবদল-তাঁতী দল নেতার জামিন

‘আ.লীগের দালালি করছিস, বেডরুমে গিয়ে বউ-বাচ্চাসহ গুলি করব’

চিরিরবন্দরে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলচালক নিহত

তারাগঞ্জে নিখোঁজের তিন দিন পর মাটিচাপা দেওয়া লাশ উদ্ধার

অচেতন করে দুই পরিবারে স্বর্ণালংকার-নগদ টাকা চুরি