হোম > সারা দেশ > রংপুর

দখল-দূষণে প্রাণ যায় আলাই নদের

আনোয়ার হোসেন শামীম, গাইবান্ধা

নদতীর দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। নদ ভরে গেছে কচুরিপানায়। সম্প্রতি গাইবান্ধার সদর উপজেলার বাদিয়াখালী এলাকায়। ছবি: আজকের পত্রিকা

গাইবান্ধা আলাই নদে গত কয়েক বছরে দখল-দূষণ বাড়ায় হুমকিতে পড়েছে নাব্যতা। এতে নষ্ট হচ্ছে নদের পানি ও জীববৈচিত্র্য। সব মিলিয়ে এখন প্রাণ যায় যায় অবস্থা আলাই নদের।

গাইবান্ধা সদর, সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে আলাই নদ। জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার আমতলী থেকে আলাই নদটি বেরিয়ে পূর্ব কোমরনইপুর ভায়া পুলবন্দি ও লোহাচোরা ব্রিজ এলাকা হয়ে ফুলছড়ি উপজেলায় প্রবেশ করেছে। এরপর উড়িয়া এলাকায় গিয়ে নদ দুই ভাগ হয়েছে। প্রায় ২২ কিলোমিটার এলাকা এঁকেবেঁকে ব্রহ্মপুত্র নদে গিয়ে মিলেছে নদটি।

নদের দুই পাড় দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘর। সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের নদের পথ প্রশস্ত ও দুই পার্শ্বে পানিপ্রবাহ বৃদ্ধির জন্য একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। দুই পাড় মাটি দিয়ে ভরাট করে সেতুটি নির্মাণের ফলে নদের স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সরেজমিন দেখা যায়, নদের তীরে শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক ঘরবাড়ি রয়েছে। নদের কোথাও হাঁটুপানি, আবার কোথাও গভীরতা একটু বেশি। স্রোত আছে, তবে নিবু নিবু। স্থানে স্থানে জন্মেছে আগাছা ও কচুরিপানা। সেতুর পূর্ব-পশ্চিমে গড়ে উঠেছে ছাদ পেটানো বাড়ি, চাতাল ও স্থাপনা। সেতুর দক্ষিণ ও উত্তর পাশে দুই দিকে রয়েছে দোকানপাট।

দূষণে নদের পানির রং কালো হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এ ছাড়া সেতুর দুই পাশে পলিথিন, ডিমের খোসা, মুরগির পচা নাড়িভুঁড়িসহ হরেক রকমের ময়লা-আবর্জনার স্তূপ রয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, ১৫ বছরে অনেকেই নদের জায়গা দখল করে বাড়িঘর দোকানপাট স্থাপনা তৈরি করছেন। এ ছাড়া সংস্কার ও খনন করা হয়নি। বছরের পর বছর দখল আর ময়লা-আবর্জনার স্তূপে নদটি ভরাট হয়ে গেছে। বর্ষায় উজান থেকে ঢল নামলে নদটি পানি ধারণ করতে পারে না। এতে ডুবে যায় আশপাশের এলাকা।

স্থানীয় বাসিন্দা খালিক হাসান বলেন, নদ এখন নালায় পরিণত হয়েছে। এসব দখল উচ্ছেদ করে নদ খননের তিনি জোর দাবি জানান। আরেক বাসিন্দা মো. সুমন ইসলাম শুভ বলেন, আগে বন্ধুদের সঙ্গে নদে সাঁতার কাটতাম। তখন নদে প্রচুর পানি আর স্রোত ছিল। এখন নদের পাশে দাঁড়ানোই কঠিন হয়ে গেছে দুর্গন্ধের কারণে। আগের সেই আলাই আর নেই।

ব্যবসায়ী মো. গোলাম রহমান সুমন বলেন, ‘ছোটবেলায় নদের স্রোত দেখে ভয় পেতাম। তখন বড় বড় নৌকা চলত। এখন নদ ভরাট হয়ে নালায় পরিণত হয়েছে। নদের অবস্থা দেখে খুব কষ্ট হয়।’ দ্রুত নদের জায়গা দখলমুক্ত করে খননের দাবি জানান তিনি।

কৃষক আশমত আলী বলেন, ‘আমরা একসময় আলাই নদের পানি সেচ দিয়ে ফসল ফলাতাম। আড়াই যুগের ব্যবধানে সেটি মরা খালে পরিণত হয়েছে। সরকার দ্রুত সময়ে মধ্যে দখল উচ্ছেদ করে নদ খনন করা উচিত।’

বাদিয়াখালী ইউনিয়নের সদস্য নুর আলম বলেন, নাব্যতা সংকটের কারণে আলাই নদে পানি নেই। নদটি খনন করে নাব্যতা ফেরাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লোকমান হোসেন বলেন, ‘আমি মাত্র দুই মাস আগে এখানে এসেছি। কেউ আমাকে এ বিষয়ে অভিযোগ করে নাই। আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানলাম। আর আমার বদলির আদেশও হয়েছে। এ মুহূর্তে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই।’

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মো. মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, আলাই নদ দখল করে বাসাবাড়ি-দোকানপাট নির্মাণ হয়েছে অনেক আগেই। কোনো দখল তো সহজে উচ্ছেদ করা যায় না। আইনগত প্রক্রিয়ার ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিয়ের প্রলোভনে অর্থ ও স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ, আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে নারীর সংবাদ সম্মেলন

রংপুরে হত্যা মামলায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কারাগারে

হিমাগার ভাড়া কমানোর দাবিতে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ, এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ

স্ত্রীকে নির্যাতনের ঘটনায় বেরোবি ছাত্রদল নেতাকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি

পীরগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন, প্রথম পর্যায়ে পেলেন ৬৬৫ জন

শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করলেন এমপি জেবা আমিন খান

হাতুড়ি দিয়ে দুইটা আঘাত করেছি: কর্মচারীকে হত্যার পর অভিযুক্ত মনু

রংপুরে হাতুড়ি দিয়ে দোকানের কর্মচারীকে পিটিয়ে হত্যা

মিঠাপুকুরে হাঁড়িভাঙা আম বাজারজাত করা শুরু

বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে উলিপুরে ছাত্রদলের মিছিল