শহীদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডে নিজেকে প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী শাহরিয়ার সোহাগ ওরফে সোহাগ আলী অভিযোগ করেছেন, এই মামলায় তাঁর প্রকৃত বক্তব্য ও অবস্থানকে বিকৃত করা হয়েছে এবং সাক্ষ্য দিতে প্রস্তুত থাকলেও সাক্ষ্য গ্রহণ করা হচ্ছে না। আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন তিনি।
শাহরিয়ার সোহাগ বলেন, ‘চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে আন্দোলনের শুরু থেকে পুলিশের গুলিতে শহীদ হওয়ার আগমুহূর্ত পর্যন্ত আমি শহীদ আবু সাঈদের একজন ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে পাশে ছিলাম। পাশাপাশি একজন প্রত্যক্ষদর্শী ও সাক্ষী হিসেবে আমি শুরু থেকেই এই মামলার তদন্তপ্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করেছি এবং বরাবর প্রস্তুত ছিলাম তা করার জন্য। অথচ তা সত্ত্বেও আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো আমার সাক্ষ্য গ্রহণ না করায় নিজ অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য আজকের এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছি।’
শাহরিয়ার সোহাগ বলেন, ‘২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট শহীদ আবু সাঈদের বড় ভাই রমজান আলী বাদী হয়ে পেনাল কোড ১৮৬০ সালের ৩০২, ২০১, ১৪৯ ও ৩৪ ধারায় রংপুরের তাজহাট থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার জি/আর নম্বর ১১১/২০২৪। শুরুতে মামলার তদন্তের দায়িত্ব পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে থাকলেও পরবর্তীতে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসের শুরুর দিকে এই মামলা পিবিআই থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে একাধিকবার তদন্তপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে আমি বিভিন্ন তথ্য ও মৌখিক জবানবন্দি প্রদানের মাধ্যমে সহযোগিতা করি। ২০২৫ সালের ২৭ আগস্ট আমাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ কর্তৃক উক্ত মামলার সাক্ষ্য প্রদানের জন্য ডাকা হলে সাক্ষীদের রেকর্ড বইয়ে আমার নামে একটি সাক্ষ্যের খসড়া দেখতে পাই। উক্ত খসড়াটি পড়ে সেটি আমার প্রকৃত বক্তব্য ও অবস্থানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে আমার কাছে প্রতীয়মান হয়।’
বেরোবির শিক্ষার্থী আরও বলেন, ‘আমি তৎক্ষণাৎ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করি এবং এই খসড়ার ভিত্তিতে সাক্ষ্য প্রদানে আপত্তি জানাই। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমার সাক্ষ্য গ্রহণ প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয় এবং পরবর্তীতে আমাকে পুনরায় ডাকা হবে বলে জানানো হলেও অদ্যাবধি সাক্ষ্য গ্রহণের উদ্দেশ্যে আমাকে ইন্টারন্যাশনাল ট্রাইব্যুনাল থেকে ডাকা হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমার সাক্ষ্য এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়নি। যদিও আমি সাক্ষ্য প্রদানে প্রস্তুত ছিলাম এবং প্রস্তুত আছি। যেহেতু আমি এই হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী, আমি এই মর্মে জানাচ্ছি যে, আমাকে যথাযথভাবে সাক্ষ্য প্রদানের সুযোগ করে দেওয়া হলে আমি তা দিতে প্রস্তুত আছি। আমি আশঙ্কা করছি যে, প্রত্যক্ষদর্শী ও সাক্ষী তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও আমার সাক্ষ্য গ্রহণ না করা হলে এটি মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং সকল পক্ষ ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।’