আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া চুক্তির বিষয়ে সরকারের (অন্তর্বর্তীকালীন) পক্ষ থেকে কেউ আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেনি। এখনো আমি অত্যন্ত দায়িত্ব নিয়ে বলছি, তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে কোনো একজন মানুষও এ বিষয় নিয়ে আমাদের সঙ্গে একটি শব্দ উচ্চারণ করেনি। এটাই হচ্ছে আমাদের ওপেনিয়ন।’
আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে রংপুর শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে সুধী সমাবেশে অংশ নেওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে জামাতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা একটা নির্বাচনমুখী দল। গণতান্ত্রিক পন্থায় এ দেশের নেতৃত্বের পরিবর্তন চাই। কাজেই আমরা সকল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি, এবারও করব। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সমস্ত পর্যায়ে অংশগ্রহণ করা হবে।’
তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন জাতীয় নির্বাচনের পর দুটি উপনির্বাচন হয়েছে। একটি শেরপুরে ও আরেকটি বগুড়ায়। আপনারা সেখানকার চিত্র কাণ্ড কারবার সবই দেখেছেন। আমরা এ ব্যাপারে শঙ্কিত, আদৌ সুষ্ঠু নির্বাচন হবে কি না? তবে আমরা জনগণকে অনুরোধ করব, তারা যেন নিজের অধিকারের পক্ষে আরেকবার সজাগ হয়, সোচ্চার হয়। সকল রোগের ওষুধ হচ্ছে জনগণের ম্যান্ডেট।’
সীমান্ত হত্যা ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার আসার পর মুসলমান ও মসজিদের সব জায়গায় হামলা হয়েছে এমন প্রশ্নে জামাতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘শুধু পশ্চিমবঙ্গই না, দুনিয়ার যে কোনো জায়গায় এ ধরনের অপকর্ম হবে আমরা তার নিন্দা জানাই। শুধু ধর্মীয় পরিচয়ে কাউকে আঘাত করার অধিকার এই দুনিয়া কাউকে দেয়নি। কোনো দেশের সংবিধানও দেয়নি। কেউ যদি এটা করে থাকেন মানবতার ওপরে জুলুম। এটার বিপক্ষে আমাদের অবস্থান সব সময় এটা স্পষ্ট।’
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা পদ্মা ব্যারেজের উদ্যোগকে অভিনন্দন জানাই। কিন্তু এটা তিস্তার বিনিময়ে নয়। তিস্তার জায়গায় অবশ্যই তিস্তাকে তার পাওনা দিতে হবে এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতেই হবে। এর ভিন্ন আমরা কিছু চাই না। এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান ক্লিয়ার।’
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন–দলটির নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, রংপুর অঞ্চলের স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা ও মহানগর নেতা-কর্মীরা।