রংপুরের পীরগাছা থেকে নিখোঁজ এক কিশোরীকে উদ্ধারে সাভারে পুলিশের অভিযানের সময় ছাত্রদল নেতা মনোয়ারুল ইসলাম বকশীর (৩০) মৃত্যুর ঘটনায় পীরগাছা থানার চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে ঢাকা ও রংপুরে পৃথক দুটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
গত শনিবার রাতে পীরগাছা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কনক রঞ্জন বর্মণ, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. ওসমান আলী এবং কনস্টেবল প্রশান্ত কুমার ও সুমী আক্তারকে প্রত্যাহার করা হয়। তাঁরা মনোয়ারুলকে উদ্ধারে পরিচালিত অভিযানে ছিলেন।
মনোয়ারুল সাভার থানা ছাত্রদলের সহসভাপতি ছিলেন। তাঁর বাড়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ হাতীবান্ধা গ্রামে। পরিবার নিয়ে তিনি সাভারে বসবাস করতেন।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পীরগাছার কৈকুড়ি ইউনিয়নের মোংলাকুটি গ্রামের ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী গত ২৩ জুলাই নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় তাঁর বাবা মিন্টু মিয়া থানায় জিডি করেন। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় কিশোরীর অবস্থান সাভারে শনাক্ত করে পুলিশ।
গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এসআই কনক রঞ্জন বর্মণের নেতৃত্বে পীরগাছা থানার ৯ সদস্যের একটি দল সাভারের লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) স্টাফ কোয়ার্টারে যায়। অভিযানে সাভার থানা-পুলিশও ছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযান চলাকালে ভবনের ছাদ থেকে কিছু পড়ার শব্দ শুনে পুলিশ সদস্যরা সেখানে যান। পরে মনোয়ারুলকে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা। তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
তবে নিহতের পরিবারের দাবি, তাঁকে ছাদ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে। মনোয়ারুলের ভাই মমদেল হোসেন বলেন, কিশোরীটির সঙ্গে তাঁর ভাইয়ের ভাগনে শাহরিয়ার কবির সৌমিকের সম্পর্ক ছিল। তাঁরা স্বেচ্ছায় বিয়ে করে সাভারে ছিলেন। কিশোরীকে উদ্ধারে তাঁর বাবা মিন্টু মিয়া ও আরও একজন পুলিশের সঙ্গে সেখানে যান।
মমদেলের অভিযোগ, তাঁদের একজন পুলিশের পোশাক পরেছিলেন। ছাদে মনোয়ারুলের সঙ্গে তাঁদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় গত শনিবার সকালে স্বজনেরা মনোয়ারুলের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে পীরগাছা থানার সামনে নিয়ে এসে বিক্ষোভ করেন। পরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক বলেন, ঘটনার তদন্তে ঢাকা ও রংপুরে পৃথক দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযানে থাকা থানার চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।