নলেয়া নদীর ওপর নির্মিত ‘ফুলেরজান’ সেতু। রংপুরের পীরগঞ্জ, মিঠাপুকুর ও পীরগাছা উপজেলার মানুষের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগমাধ্যম ছিল এই সেতু। কিন্তু সেতুটির পাটাতন ভেঙে পড়ায় কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে তিন উপজেলার হাজারো মানুষ। এই সেতু দিয়ে আগে সব ধরনের যানবাহন চলাচল করলেও এখন বন্ধ রয়েছে মাঝারি ও ভারী যানবাহন চলাচল। আর এ অবস্থা প্রায় চার বছর ধরে। নেওয়া হয়নি কোনো সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ। যার ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়রা জানান, পীরগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে শানেরহাট হয়ে মিঠাপুকুরের বড় হযরতপুর ও বৈরতীহাট হয়ে পীরগাছাগামী সড়কের ভগবতীপুর এলাকায় অবস্থিত এই সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে তিন উপজেলার মানুষের সহজ যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ছিল। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ সেতু ব্যবহার করতেন। তবে সেতুর পাটাতন ভেঙে পড়ার পর থেকে যোগাযোগব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে গেছে।
বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুটি বন্ধ থাকায় এখন তাঁদের ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। এতে সময়ের পাশাপাশি বাড়ছে যাতায়াত ব্যয়ও।
হযরতপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা নাসিমুল ইসলাম, হযরত আলী ও দামোদরপুর গ্রামের লিটন প্রধান বলেন, ‘এটাই ছিল আমাদের চলাচলের প্রধান রাস্তা। সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে অনেক ঘুরপথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে ভোগান্তি বাড়ছে।’
স্থানীয় মুরগি ব্যবসায়ী আঙ্গুর মিয়া বলেন, ব্রিজ ভাঙার কারণে ব্যবসায় প্রভাব পড়েছে। এখন অনেক দূর ঘুরে গ্রামে গিয়ে মুরগি কিনতে হয়। এতে খরচও বেড়ে গেছে।
শানেরহাট ইউনিয়নের ব্যবসায়ী মান্নান খান বলেন, সেতুটি সচল থাকাকালে ওই এলাকার মানুষ শানেরহাটে আসতেন। হাটের দিন ব্যবসাও জমজমাট থাকত। এখন মালামাল পরিবহন বন্ধ থাকায় ব্যবসা কমে গেছে।
শানেরহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেছবাহুর রহমান বলেন, ‘সেতুটি আমাদের উপজেলার মধ্যে নয়, এটি মিঠাপুকুর উপজেলার অংশে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের একাধিকবার বলা হয়েছে। বরাদ্দ পেলে সংস্কারকাজ শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে।’
এ প্রসঙ্গে মিঠাপুকুর উপজেলা প্রকৌশলী বাদশা আলমগীর বলেন, সেতুটি নতুন করে নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে মাটি পরীক্ষা করা হয়েছে। আগামী শুষ্ক মৌসুমে নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে আশা করছি।