রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঘোষিত কমিটি নিয়ে দলটির একাংশের নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। দলটির বিক্ষুব্ধ অংশটির অভিযোগ—ত্যাগী ও আন্দোলনে সক্রিয় নেতা-কর্মীদের বাদ দিয়ে জাতীয় পার্টির (জাপা) নেতা-কর্মীদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হয়েছে।
এসব অভিযোগ জানাতে আজ শুক্রবার বিকেলে গঙ্গাচড়া সরকারি কলেজ মোড়ে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলার সাবেক প্রধান সমন্বয়কারী ও বর্তমান কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক রিফাতুজ্জামান লাবু।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, তৃণমূলের মতামত উপেক্ষা করে গত ১০ জুন রাতে ঘোষিত উপজেলা এনসিপির কমিটি গঠন করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের জন্য কাজ করা নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন না করে একটি ‘পকেট কমিটি’ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।
রিফাতুজ্জামান লাবু বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে শুরু করে জাতীয় নাগরিক কমিটি ও এনসিপি গঠনের সময় যাঁরা মাঠে ছিলেন, তাঁদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। একটি মহল নিজেদের স্বার্থে সংগঠনকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। বিপ্লবের চেতনা কোনোভাবেই বিক্রি হতে দেওয়া হবে না।’
বিক্ষুব্ধ এই নেতা অভিযোগ করে বলেন, রংপুর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক আল মামুন এর আগে জাতীয় পার্টির ছাত্রসংগঠন ছাত্রসমাজের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন। জুলাই আন্দোলনের পর তিনি এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন বলেও দাবি করেন। বর্তমানে জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের দলে এনে নেতৃত্বে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন রিফাতুজ্জামান লাবু।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতারা অভিযোগ করেন, কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সাংগঠনিক নিয়ম-নীতি অনুসরণ করা হয়নি। সার্চ কমিটি গঠন, ফরম বিতরণ ও কমিটি ঘোষণার পুরো প্রক্রিয়া নিয়েও তাঁরা প্রশ্ন তোলেন।
এনসিপির ক্ষুব্ধ এ নেতা-কর্মীদের দাবি, আন্দোলনে সক্রিয় ও ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে আন্দোলনের বিরোধিতাকারীদের দলে জায়গা দেওয়া হচ্ছে।
বক্তারা বলেন, ‘যাঁরা ব্যক্তিগত জীবন ও সংসারের ব্যস্ততা উপেক্ষা করে সংগঠনের জন্য কাজ করেছেন, তাঁদের বাদ দিয়ে সুবিধাবাদীদের জায়গা দেওয়া হলে তৃণমূলের কর্মীরা তা মেনে নেবেন না।’
সংবাদ সম্মেলন নবঘোষিত উপজেলা কমিটি বাতিল করে ত্যাগী ও আন্দোলনে সক্রিয় নেতা-কর্মীদের সমন্বয়ে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়। দাবি পূরণ না হলে বর্তমান কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করারও হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রংপুর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক আল মামুনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।