হোম > সারা দেশ > রাজশাহী

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা: কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী ২৩৮ সবার ফল ‘গায়েব’

রিমন রহমান, রাজশাহী

রাজশাহী শহরের একটি পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষা দেওয়া ২৩৮ শিক্ষার্থীর প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল আসেনি। তারা সবাই রাজশাহী উপশহর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে বৃত্তি পরীক্ষা দিয়েছিল। তারা ১১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল। শিক্ষক-অভিভাবকেরা ধারণা করছেন, শিশুদের পরীক্ষার খাতা হয়তো হারিয়ে গেছে। এ নিয়ে অভিভাবকেরা শিক্ষা অফিসে ভিড় করছেন।

রাজশাহী উপশহর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুর রহমান জানান, এই বিদ্যালয়ে তাঁর নিজেরসহ মোট ১১টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল। বোয়ালিয়া থানার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা রোজি খন্দকার পরীক্ষা চলাকালে প্রশ্নপত্র আনতেন। পরীক্ষা শেষে তিনিই খাতা নিয়ে যেতেন। গত রোববার (১২ জুলাই) সারা দেশের বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়। কিন্তু এই কেন্দ্রে যারা পরীক্ষা দিয়েছিল, তাদের একজনও বৃত্তি পায়নি। তখন তারা বুঝতে পারেন যে এই ২৩৮ শিক্ষার্থীর ফলাফলই হয়নি। কেন হয়নি তা তিনি জানেন না।

রাজশাহী উপশহর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফারহানা খাতুন বলেন, ‘এবার আমাদের অনেক ভালো ব্যাচ ছিল। একজনও বৃত্তি পাবে না এটা অবিশ্বাস্য। ফলাফল নিয়ে কোনো একটা সমস্যা অবশ্যই হয়েছে।’

বৃত্তির ফলাফল না আসায় অভিভাবকেরা নিজ নিজ সন্তানের স্কুল এবং থানা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে ভিড় জমাচ্ছেন।

বোর্ড মডেল স্কুলের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক সৈয়দ আবদুল মুনিম কাজল বলেন, ‘ বাচ্চার কান্না কোনোমতেই থামছে না। এক কেন্দ্রের মোট ২৩৮ শিক্ষার্থীর কেউ বৃত্তি পাবে না, এটা তো হতেই পারে না। হয়তো খাতা হারিয়ে গেছে। আমরা তদন্তের দাবি জানাই। ’

রাজশাহীর আটকোষি সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নীলুফা আখতার খানম বলেন, ‘আমাদের ১৭ জন শিক্ষার্থী ছিল। আমরা কয়েকজনের ব্যাপারে আশাবাদী ছিলাম। কিন্তু কারও ফলাফল আসেনি। বিষয়টি তদন্তের জন্য আমরা প্রাথমিক শিক্ষার মহাপরিচালকের কাছে লিখিত আবেদন দিচ্ছি।’

জানতে চাইলে বোয়ালিয়া থানা শিক্ষা কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার জেলা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক। কেন্দ্র থেকে খাতা আনার পর আমরা জেলা প্রশাসকের ট্রেজারিতে পাঠিয়ে দিয়েছি। ট্রেজারি থেকে খাতা অন্য কোনো জেলার পরীক্ষকের কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি খাতা মূল্যায়ন করে সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে খাতা ও ফলাফল জমা দিয়েছেন। তারপর সেটি ঢাকায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে গেছে। সেখান থেকেই ফলাফল হয়েছে। এখন এক কেন্দ্রের কারও ফলাফল না আসায় অভিভাবকেরা আমার কাছে আসছেন। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে আবেদন করছেন। আমরা বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। তিনি পদক্ষেপ নেবেন বলে জানিয়েছেন।’

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার জেলা কমিটির সদস্যসচিব ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমাদেরও খুব মন খারাপ। আমি অভিভাবকদের কোনো জবাব দিতে পারছি না। তাঁরা বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য লিখিত আবেদন দিচ্ছেন। আমরা সেটা অধিদপ্তরে পাঠিয়ে দেব।’ তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের এতগুলো খাতা হয়তো হারিয়ে যায়নি। ফলাফল প্রস্তুতের সময় কোনো কারিগরি ত্রুটির কারণে এটা হতে পারে। অধিদপ্তর এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।’

বানেশ্বর হাট: আমের বাজার এখনো জমজমাট

রাজশাহীতে নারীকে কুপিয়ে মোবাইল ছিনতাই, গ্রেপ্তার ২

উত্তরাঞ্চলের আড়াই লাখ কৃষক পরিবারের ২২৫ কোটি টাকা ঋণ মওকুফ

আমের ঢলন প্রথা বাতিল শুধু মুখেই

২৫ ঘণ্টা পর রাজশাহী থেকে বাস চলাচল শুরু

ঘুমের ওষুধ মেশানো ডাব খেতে দেন তাঁরা, পরে হাতিয়ে নেন মালামাল-টাকাপয়সা

জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া শিক্ষকদের তালিকা ভিসির কাছে দিল রাকসু

১৩ বছর পর রামেক হাসপাতালে বাড়ল ১০০ শয্যা, সরকারি স্বীকৃতি পেল আইসিইউ

নেসকোর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হলেন শরীফ উদ্দীন

রাজশাহীতে ইয়াবাসহ বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার