রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় এক বিএনপি নেতার বাড়িতে রাতে ককটেলসদৃশ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের পাকুড়িয়া গ্রামে শফি নেওয়াজ ওরফে অমল থান্দারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। অমল থান্দার পাকুড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার পর বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতারা তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী শফি নেওয়াজ জানান, ঘটনার সময় তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাড়ির বাইরে কয়েকজন লোকের গালাগালির শব্দ শুনতে পান তিনি। কিছু সময় পরই পরপর চারটি বিকট শব্দ শোনা যায়। শব্দে আশেপাশের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে ছুটে আসেন।
অমল থান্দার বলেন, ‘প্রথমে মনে হয়েছিল ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ। পরে আবার মনে হয়েছে ফাঁকা গুলির শব্দও হতে পারে। ঘটনার পরপরই বিষয়টি বাঘা থানা-পুলিশকে জানালে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তারা।
অমল থান্দারের দাবি, এ ঘটনার পেছনে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা জড়িত থাকতে পারে। তিনি বলেন, বাড়ির বাইরে বের হওয়ার আগেই দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বাঘা উপজেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি বাবুল ইসলাম তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনী দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে এবং আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ফাঁকা গুলি ছুড়েছে। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বাঘা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফখরুল হাসান বাবলু বলেন, ‘বিএনপি নেতাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যেই এ হামলা চালানো হয়েছে বলে আমরা মনে করছি। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।’
এ বিষয়ে বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেরাজুল হক বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই রাতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে ঘটনার পর এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।