রাজশাহীতে পুলিশের সামনেই টেন্ডার বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনায় যুবদলের দুই নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মহানগর যুবদলের পক্ষ থেকে তাঁদের কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে ঘটনার বিষয়ে ব্যাখা চাওয়া হয়।
যাঁদের শোকজ করা হয়েছে, তাঁরা হলেন নগরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ড (দক্ষিণ) যুবদলের আহ্বায়ক মো. ধলু ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুল ইসলাম। তাঁদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি ও সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম রবির কাছে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
মহানগর যুবদলের সদস্য (দপ্তরে সংযুক্ত) মাসুদুল হক মৃধা মোমিন স্বাক্ষরিত এই কারণ দর্শানোর নোটিশ তাঁদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ব্যাখ্যা না দিলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও নোটিশে জানানো হয়েছে।
জানতে চাইলে মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি জানান, ব্যাখ্যা শোনার পর তাঁরা সিদ্ধান্ত নেবেন।
এর আগে সকালে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) টেন্ডার বাক্স ছিনতাই করেন স্থানীয় যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতা-কর্মী। তাঁরা বাক্স থেকে সব দরপত্র বের করে দেখেন। পরে বাক্সটি ফেরত দেন।
আরডিএ সূত্রে জানা গেছে, কয়েকটি শৌচাগারের পুরোনো দুটি বিলবোর্ড, আরডিএ পার্কের ছোট-বড় ২৭টি গাছ, ঢাকা লিয়াজোঁ অফিসের পাঁচটি সোলার প্যানেল, ১৪টি ব্যাটারি, লিফটের ভাঙা যন্ত্রাংশসহ কিছু পুরোনো জিনিসপত্র বিক্রির জন্য সম্প্রতি নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। গত ২৭ এপ্রিল থেকে দরপত্র গ্রহণ শুরু হয়। আজ বেলা ১টা পর্যন্ত দরপত্র দাখিলের শেষ সময় ছিল। শেষ দিন সকাল থেকেই টেন্ডার বাক্সের পাশে পুলিশ ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীরা সেখানে দরপত্র জমা দিতে যান। এ সময় তাঁরা দাবি করেন, আগেই কিছু দরপত্র বাক্সে ফেলে দেওয়া হয়েছে। আগে যেসব দরপত্র বাক্সে পড়েছে, সেগুলো বাদ দিতে হবে। এখন শুধু তাঁরাই দরপত্র দাখিল করবেন। আরডিএ কর্মকর্তারা বোঝানোর চেষ্টা করেন, গত ২৭ এপ্রিল থেকেই দরপত্র দাখিল চলছে। কিন্তু ১৮ নম্বর ওয়ার্ড (দক্ষিণ) যুবদলের আহ্বায়ক মো. ধলু কোনো কথা না শুনে পুলিশের সামনে থেকেই টেন্ডার বাক্স নিয়ে অফিসের করিডরে চলে যান। পরে টেন্ডার বাক্স থেকে আগের দরপত্রগুলো বের করা হয়। পরে বাক্সটি পুলিশকে ফেরত দেওয়া হয়।
সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে টেন্ডার বাক্স ছিনতাইয়ের সময় পুলিশকে নির্বিকার দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলে ১৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুল ইসলাম, যুবদল নেতা শরিফ, সাগর, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মামুনসহ আরও কয়েকজনকে দেখা যায়। বাক্সটি ফেরত দেওয়ার পর বেলা আড়াইটায় খোলা হয়। তখন চারটি গ্রুপে ৯টি দরপত্র বাক্সে পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি গ্রুপের জন্য বাক্সে দরপত্র ছিল পাঁচটি। অন্য তিনটি গ্রুপের দরপত্র পাওয়া যায় চারটি। মাত্র আড়াই লাখ টাকার এই জিনিসপত্র কিনতে প্রায় ৪৫০ জন শিডিউল কিনেছিলেন।
আরডিএর সহকারী প্রকৌশলী কাজী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘পুলিশের সামনেই দরপত্র বাক্স ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। ২৭ এপ্রিল থেকে দরপত্র জমা নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তাঁদের দাবি ছিল যে, আজ যেগুলো জমা হবে, শুধু সেগুলোই নিতে হবে। তাঁরা বাক্স থেকে অন্য দরপত্র বের করে দেখেছেন। সেগুলো পরে বাক্সে ঢোকানো হয়েছে কি না, জানি না। বাক্স অফিস ছাড়া অন্য কেউ খুলতে পারে না। এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
বাক্স ছিনতাইয়ের সময় কাউকে আটক না করার বিষয়ে জানতে চাইলে নগরের শাহমখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, তাঁরা ভুল বুঝে বাক্স নিয়ে গিয়েছিলেন। পরে ভুল বুঝতে পেরে ফেরত দিয়েছেন। এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আরডিএ চাইলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে। তা না হলে পুলিশই নেবে।