আজ রোববার (১৫ আগস্ট) শহীদ নুরুল ইসলামের ৫০ তম শাহাদাত বার্ষিকী। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক হানাদার বাহিনী তাঁকে ব্রাশফায়ারে হত্যা করে। আজও শহীদের মর্যাদা পাননি নুরুল ইসলাম। নাটোরের লালপুরের ডেবরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা নুরুল মেম্বার নামে পরিচিত ছিলেন।
তাঁর স্ত্রী রাবেয়া বেগম (৮৫) জানান, স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গকারী তাঁর স্বামীর শহীদ হিসেবে স্বীকৃতির জন্য তিনি বিভিন্ন দপ্তরে আরজি জানিয়ে কোন ফল পাননি।
তাঁর বড় ছেলে লালপুর শ্রীসুন্দরী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, সে সময় তাঁর বাবা লালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ছিলেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছেন। রাজাকাররা স্থানীয় কিছু সংখ্যালঘুর বাড়ি লুট শুরু করলে তিনি বাঁধা দেন। বিষয়টি রাজাকাররা স্থানীয় ক্যাম্পে জানালে পাক সেনারা ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট সন্ধ্যায় তাঁকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর লালপুর শ্রী সুন্দরী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার চত্বরে গাছের সঙ্গে বেঁধে ব্রাশফায়ার করে হত্যা করে।
তাঁর বাবার মৃত্যুর পর মা, পাঁচ বোন ও দুই ভাইয়ের মুখে একমুঠো খাবার দিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়িয়েছেন। তিনি তখন অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। ক্লাসে প্রথম হওয়া সত্ত্বেও আর্থিক অনটনে তাঁকে সংসারের হাল ধরতে হয়। স্বাধীনতার পর পর শহীদ পরিবারের সদস্য হিসেবে বঙ্গবন্ধু স্বাক্ষরিত সনদসহ নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হলেও শহীদের স্বীকৃতি পাননি।
নাটোর জেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুর রউফ সরকার বলেন, মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত করতে উপজেলা পর্যায়ে যাচাই বাছাইয়ে বাদ পড়লেও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল বরাবর আগামী ৩০ আগস্ট ২০২১ পর্যন্ত অনলাইনে আপিল করতে পারবেন।