রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী আবুল হাসানের ওপর বহিরাগত নিয়ে ছাত্রদল নেতা হাসিবুল ইসলাম হাসিবের হামলা ও ছুরিকাঘাতের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। হাসিবুল ইসলাম হাসিব রাবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবন-সংলগ্ন প্যারিস রোডে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় রাকসু নেতারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এর মধ্যে ‘আমার ভাইকে মারল কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘শিক্ষা-সন্ত্রাস একসঙ্গে চলে না’, ‘বিচার চাই, সন্ত্রাসীদের বিচার চাই’, ‘সন্ত্রাসীদের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আবুল হাসান বলেন, ‘চারুকলা এলাকায় কিছু বহিরাগত প্রায়ই দর্শনার্থীদের হেনস্তা করে। গতকাল বিকেলে আমাদের এক সহপাঠী তার বান্ধবীকে নিয়ে সেখানে গেলে তাকে আটকে হেনস্তা করা হয়। এ সময় ছাত্রদল নেতা হাসিব তার কাছে টাকা দাবি করে। প্রতিবাদ করলে তাকে হুমকি দেওয়া হয়।’
হাসান আরও বলেন, ‘পরে রাতে আমরা প্যারিস রোডে অবস্থান করছিলাম। এ সময় ছাত্রদল নেতা হাসিব বহিরাগত নিয়ে এসে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। আমাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। আমি চাই জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হোক।’
একই বিভাগের শিক্ষার্থী সজিবুর রহমান বলেন, ‘দোষীদের শাস্তির দাবিতেই আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি। ক্যাম্পাসে এমন ঘটনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করছে। আমরা চাই, সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক এবং আহত শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে কোনো ঝুঁকিতে যেন না পড়ে।’
মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, শিক্ষার্থীর ওপর এ ধরনের হামলা পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের জন্য লজ্জাজনক। কোনো সংগঠনের পরিচয়ে কেউ যদি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালান, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। বিচার না হলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের নিরাপদ ভাবতে পারবেন না।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদুল্লাহ কলা ভবনের সামনে ছাত্রদল নেতা হাসিবুল ইসলাম হাসিবের নেতৃত্বে বহিরাগতরা ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী হাসানকে ছুরিকাঘাত করে। এ সময় অন্যদের ওপরও হামলার অভিযোগ উঠেছে।