নাম নুরুল ইসলাম। তবে সে নাম আড়াল করে হয়েছিলেন ডা. মো. রফিকুল হাসান। এইচএসসি পাস নুরুল নামের পাশে লিখতেন এমবিবিএস, এফসিপিএস (মেডিসিন) ও এফসিপিএস (নিউরো মেডিসিন) ডিগ্রি। করতেন ব্রেন, নার্ভ, স্ট্রোক, প্যারালাইসিস, স্পাইন ও মৃগী রোগের চিকিৎসা। ভ্রাম্যমাণ আদালত এই ভুয়া চিকিৎসককে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন।
অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম রাজশাহী শহরের বহরমপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) নিবন্ধন নম্বর অ-৩৪৭৯৭ ব্যবহার করে নিজেকে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয় দিতেন। দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভার গোডাউন মোড়ে অবস্থিত আত-তাবারা মডেল হাসপাতালে তাঁর চেম্বার রয়েছে। আজ রোববার সকালে সেখানেই অভিযান চালান ভ্রাম্যমাণ আদালত।
আত-তাবারা মডেল হাসপাতালের ভেতরে ও চেম্বারের সাইনবোর্ডে প্রতারক নুরুল ইসলামের পরিচয় লেখা ছিল—ডা. মো. রফিকুল হাসান, এমবিবিএস, এফসিপিএস (মেডিসিন), এফসিপিএস (নিউরো মেডিসিন)। কিশোরগঞ্জের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ হিসেবেও উল্লেখ করা ছিল। সাইনবোর্ডে আরও উল্লেখ ছিল—তিনি ব্রেন, নার্ভ, স্ট্রোক, প্যারালাইসিস, স্পাইন ও মৃগী রোগের চিকিৎসা দেন। কিন্তু তদন্তে এসব তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও প্রতারণামূলক বলে প্রমাণিত হয়।
অভিযানের সময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সাফিউল্লাহ নেওয়াজ অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম ভূঁঞার কাছে প্রসিকিউশন দাখিল করেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। পরে পুলিশ তাঁকে কারাগারে নিয়ে যায়।
অভিযানে আত-তাবারা মডেল হাসপাতালের মালিক মশিউর রহমানকেও ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জেনেশুনে ভুয়া চিকিৎসক নিয়োগ এবং রোগীদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলার দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫২ ধারা অনুযায়ী তাঁকে এ জরিমানা করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আটক ভুয়া চিকিৎসক নুরুল ইসলাম শুধু ভবানীগঞ্জেই নয়, তিনি পার্শ্ববর্তী নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সেভেন স্টার ক্লিনিকসহ বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়মিত চিকিৎসা দিতেন। তাঁর দেওয়া চিকিৎসা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহ ছিল।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম ভূঁঞা বলেন, জনগণের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। ভুয়া চিকিৎসক, অননুমোদিত ক্লিনিক ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সব কার্যক্রমের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলবে।