হোম > সারা দেশ > রাজবাড়ী

চরাঞ্চলে সাপের উপদ্রব, দুই বছরে আক্রান্ত ৩৭০

রাজবাড়ী প্রতিনিধি

প্রতীকী ছবি

রাজবাড়ীর পদ্মা নদীর তীরবর্তী এলাকায় রাসেলস ভাইপারসহ বিভিন্ন বিষধর সাপের উপদ্রব শুষ্ক মৌসুমেও পুরোপুরি থামেনি। বর্ষা মৌসুমের তুলনায় বর্তমানে কিছুটা কমলেও প্রায় সময়ই সাপের কামড়ে আহত হচ্ছেন কৃষকেরা। বর্তমানে চরাঞ্চলে আখ কাটার মৌসুম। কৃষকেরা আতঙ্ক নিয়ে কাজ করছেন।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, গত দুই বছরে জেলায় রাসেলস ভাইপারসহ বিভিন্ন সাপের কামড়ে আহত হয়েছে ৩৭০ জন। এর মধ্যে পাংশা উপজেলায় ১৯৩ জন সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে সরকারি হিসাবের বাইরেও অনেকে আহত হয়েছে। তারা হাসপাতালে না গিয়ে ওঁঝার দ্বারস্থ হয় বলে কৃষকেরা জানিয়েছেন।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালগুলোতে সাপের কামড়ে আহত রোগীদের জন্য অ্যান্টিভেনম ভ্যাকসিন পাওয়া যায় না। তবে স্বাস্থ্য বিভাগের দাবি, তাদের কাছে এখনো পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন মজুত রয়েছে।

জানা গেছে, জেলার পাংশা উপজেলায় সাপের উপদ্রব সবচেয়ে বেশি। মাস দেড়েক আগে উপজেলার শাহমীরপুর গ্রামের পদ্মার চরে ধান কাটতে গিয়ে কৃষক মো. হেলাল বিশ্বাসের পায়ে কামড় দেয় রাসেলস ভাইপার। পরে ওই কৃষক সাপটি জীবিত ধরে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে হাজির হন। এর পর থেকে ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সাপের ভয়ে কৃষিকাজ করতে ভয় পাচ্ছেন কৃষকেরা।

সম্প্রতি পাংশার শাহমীরপুর গ্রামের পদ্মার চরাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, চরাঞ্চলে এখন আখমাড়াইয়ের কাজ চলছে। কৃষকেরা আখের খেত বা পালা দিয়ে রাখা খড়ের মধ্যে কাজের আগে বাঁশ বা লাঠি দিয়ে নাড়িয়ে দিচ্ছেন, যেন সাপ থাকলে সরে যায়। এরপর কাজ শুরু করেন তাঁরা। তবু ভয় নিয়ে কাজ শুরু করতে হচ্ছে।

কৃষক হেলাল বিশ্বাসের স্ত্রী বিথি খাতুন বলেন, ‘দেড় মাস আগে আমার স্বামী কৃষিকাজ করতে গিয়ে সাপের কামড়ে আহত হন। পরে তিনি সাপটি ধরে হাসপাতালে নিয়ে যান। এখনো তাঁর চিকিৎসা চলছে। প্রতিবার পরীক্ষা করতে ১০-১২ হাজার করে টাকা লাগছে। আমরা গরিব মানুষ, এত টাকা কোথায় পাব। সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা হয় না। ক্লিনিক থেকে করাতে হয়।’

স্থানীয় কৃষক বারেক বিশ্বাস বলেন, ‘আমাদের এই এলাকায় এত সাপ কোথা থেকে এল বুঝতে পারছি না। মাঠে কাজ করতে ভয় লাগে এখন। কয়েক দিন আগেও একজনকে সাপে কামড় দিয়েছে। মাঝে মধ্যে আখখেতসহ বিভিন্ন ফসলের জমিতে সাপ দেখা যায়।’

হামিদ আলী নামের একজন বলেন, ‘আমাদের এদিকে সাপের উৎপাত বেশি। কয়েক দিন আগেও আখখেত থেকে দুটি রাসেলস ভাইপার পিটিয়ে মেরেছি। এখানে সব কৃষকই আতঙ্কের মধ্যে কাজ করেন।’

হামিদ আলী আরও বলেন, ‘হাসপাতালে ভ্যাকসিন পাওয়া যায় না। আমাদের নদী এলাকায় খেতে কাজ করার সময় সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে পার্শ্ববর্তী ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হয়। অনেকেই আবার পথেই মারা যান।’

রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন এস এম মাসুদ বলেন, জেলার সব হাসপাতালে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম ইনজেকশন আছে। আগামী বর্ষা মৌসুমের জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। বর্তমানে জেলার পাঁচটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় ২০০টি অ্যান্টিভেনম ইনজেকশন মজুত আছে।

রাজবাড়ীর কালুখালীতে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২

ঈদ ঘিরে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় বিশেষ প্রস্তুতি, চলবে ১৭ ফেরি ও ২০ লঞ্চ

ঈদযাত্রায় মোবাইল কোর্টের সংখ্যা বাড়ানো হবে: সেতুমন্ত্রী

‘টাকা লাগলে টাকা নিতি, তা-ও বন্ধুদের দাওয়াত দিতি’

পতাকা নামাতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে নারীর মৃত্যু

রাজবাড়ীতে বজ্রপাতে অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যু

ব্যারাজ অনুমোদনে রাজবাড়ীতে আনন্দ মিছিল

পদ্মা ব্যারাজে নতুন স্বপ্ন দেখছে রাজবাড়ী

দুই বন্ধুর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, একজন আটক

সিঁড়ি ছাড়াই বানানো হলো স্কুলের দোতলা ভবন, ৪ বছর ধরে অব্যবহৃত