দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে একনেকে অনুমোদন পেয়েছে রাজবাড়ীর পাংশার বহুল আলোচিত ‘পদ্মা ব্যারাজ’ প্রকল্প। ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন হতে যাওয়া এই প্রকল্প ঘিরে নতুন আশায় বুক বাঁধছে রাজবাড়ীসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দাদের বিশ্বাস, ব্যারাজ নির্মাণ করা হলে প্রাণ ফিরে পাবে মৃতপ্রায় নদী; ঘুরে দাঁড়াবে কৃষি, মৎস্য ও আঞ্চলিক অর্থনীতি।
প্রকল্পের আওতায় পাংশা উপজেলার হাবাসপুর পয়েন্টে পদ্মা নদীর ওপর ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে। এর মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণ, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ এবং গড়াই-মধুমতীসহ কয়েকটি মৃতপ্রায় নদী পুনরুজ্জীবনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
পাংশার কৃষক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘পানির অভাবে প্রতিবছর ফসল কমে যাচ্ছে। অনেক জমি চাষই করা যায় না। ব্যারাজ হলে যদি সারা বছর পানি পাওয়া যায়, তাহলে কৃষকেরা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন—এই আশাতেই আছি।’
জেলে সোহেল শেখ বলেন, ‘একসময় পদ্মা ছিল আমাদের জীবিকা। এখন নদীতে মাছ নেই, আয়ও নেই। আমরা চাই নদী আবার আগের মতো ভরে উঠুক, যেন জেলেদের সংসারে আবার হাসি ফেরে।’
গণমাধ্যমকর্মী দেবাশীষ বিশ্বাস বলেন, ‘ফারাক্কার প্রভাবে দক্ষিণাঞ্চলের নদীগুলো বছরের পর বছর সংকটে আছে। পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়িত হলে নদী, কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় এটি যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে পারে। এখন মানুষের প্রত্যাশা, কাজ যেন দ্রুত ও সঠিকভাবে শেষ হয়।’
কবি খোকন মাহমুদ বলেন, ‘পদ্মা শুধু নদী নয়, এই অঞ্চলের মানুষের স্মৃতি, সংস্কৃতি ও আবেগের অংশ। নদী শুকিয়ে যাওয়ার সঙ্গে মানুষের জীবন থেকেও অনেক কিছু হারিয়ে গেছে। ব্যারাজ সেই হারানো প্রাণ ফিরিয়ে আনবে—মানুষ এমন স্বপ্নই দেখছে।’
স্থানীয় ব্যবসায়ী কামাল হোসেন বলেন, নদীপথ সচল হলে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে। এতে পুরো অঞ্চলের অর্থনীতি বদলে যেতে পারে।
শিক্ষক আমীর আলী মুন্সী বলেন, দশকের পর দশক মানুষ এই প্রকল্পের দাবি জানিয়ে এসেছে। অনুমোদনের খবর মানুষকে নতুন আশা দিয়েছে। এখন সবাই বাস্তব কাজ দেখতে চায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়িত হলে শুধু রাজবাড়ী নয়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, মৎস্য, নৌযোগাযোগ ও পরিবেশে বড় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।