পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পেতে থানায় আশ্রয় নিয়েছে এক স্কুলছাত্রী। আজ শনিবার উপজেলার সদর ইউনিয়নের ওই ছাত্রী দুই দফা থানায় গিয়ে বিয়ে বন্ধে পুলিশের সহায়তা চায়। পরে পুলিশ অভিভাবকের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নিয়ে তাকে পরিবারের জিম্মায় দিয়েছে।
ভুক্তভোগী উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই স্কুলছাত্রীর বাবা পেশায় একজন কৃষক এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল। মেয়ের বিয়ের জন্য ‘ভালো’ প্রস্তাব পাওয়ায় তিনি তার বিয়ে দিতে আগ্রহী হন। কিন্তু ওই ছাত্রী এখন বিয়ে করতে অনিচ্ছুক এবং পড়ালেখা করতে চায়। পরিবার তাকে চাপ দিলে সে নিজে থানায় গিয়ে বিয়ে বন্ধে পুলিশের সহযোগিতা চায়।
ওই স্কুলছাত্রী জানায়, পরিবারের পক্ষ থেকে জোর করে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। সে এখন বিয়ে করতে চায় না এবং আসন্ন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে চায়। পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর ইচ্ছার কথাও জানায় সে।
স্কুলছাত্রীর বাবা বলেন, ‘মেয়ের সিদ্ধান্তকে আমরা মেনে নিয়েছি। এ বিষয়ে থানায় কথা হয়েছে। আমরা মেয়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে আর কোনো জোরাজুরি করব না।’
ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিম হাওলাদার জানান, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হয়েছে। ওই ছাত্রীর অভিভাবককে থানায় ডেকে এনে বাল্যবিবাহ না দেওয়ার শর্তে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়েছে এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে মেয়েটিকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।