পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় জমি থেকে কৃষকের গাজর লুট ও চাঁদাবাজির অভিযোগে যুবদলের দুই কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার রাতে ঈশ্বরদী ইপিজেডসংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার যুবকেরা হলেন পাকশী ইউনিয়নের বাঘইল ঠাকুরপাড়া গ্রামের মো. কালামের ছেলে মো. আশিকুল ইসলাম (৩০) এবং একই এলাকার পলান হোসেনের ছেলে মো. পলাশ (৩০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুই দফায় ঘটে যাওয়া লুটের ঘটনা নিয়ে কয়েক দিন আগে ভুক্তভোগী কৃষক মো. শরিফুল ইসলাম (৪১) বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় মামলা করেন। এজাহারে আশিকুল, পলাশসহ পাকশীর কয়েকজনের নাম উল্লেখ রয়েছে। মামলার বাদী শরিফুল উপজেলার ছলিমপুর ইউনিয়ন জগন্নাথপুর গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে।
এজাহারের সূত্র ধরে পাকশী ফাঁড়ির পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী শরিফুল ইসলাম কিছুদিন আগে পাকশী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের পলাতক সভাপতি হাবিবুল ইসলাম হব্বুল এবং স্থানীয় আরেক ব্যক্তি স্বপনের নামে রেলওয়ে থেকে লিজ করা জমি বছরভিত্তিক চুক্তিতে ভাড়া নিয়ে সেখানে গাজরসহ সবজি চাষ করে আসছিলেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, চাষাবাদের পর থেকে আসামিরা তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। প্রাণনাশের হুমকির মুখে তিনি প্রথমে ২৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। কিন্তু পরে আরও টাকা দাবি করা হলে তিনি দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আসামিরা শরিফুল ইসলামকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিতে থাকেন। এরই ধারাবাহিকতায় ৩ ও ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে প্রায় ৫ লাখ টাকার গাজর লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় বাদী পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি থানায় মামলা করেন।
পাকশী ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শরিফুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে জানান, কৃষক শরিফুলের করা মামলায় দুই যুবককে গতকাল রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের পাবনায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।