হোম > সারা দেশ > পাবনা

ঈশ্বরদীতে দাদি-নাতনি খুনের মূল আসামি গ্রেপ্তার

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি 

ঈশ্বরদীতে দাদি-নাতনি খুনের মূল আসামি গ্রেপ্তার। ছবি: আজকের পত্রিকা

পাবনার ঈশ্বরদীতে মধ্যরাতে নিজ বাড়িতে দাদি-নাতনি খুনের ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শরিফুল ইসলাম শরীফ (৩৫) নামের এক যুবককে আজ রোববার গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে শরীফ জানান, যৌন চাহিদা চরিতার্থ করার চেষ্টা ও তাতে বাধার কারণে সৃষ্ট ক্ষোভ থেকেই তিনি দাদি সুফিয়া খাতুন (৬৫) ও তাঁর নাতনি জামিলা খাতুনকে (১৬) খুন করেন।

এর আগে শনিবার রাতে নিহত জামিলার বোন বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরে শরীফকে আটক করে পুলিশ। তিনি একই উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর উত্তরপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

মোবাইল ফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার জানান, আসামি গ্রেপ্তারের পর হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কিছু আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিবি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শরীফের বর্ণনা অনুযায়ী জানা যায়, গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে তিনি জামিলাদের বাড়িতে বাজার পৌঁছে দিতে যান। সে সময় সুফিয়া খাতুন বাড়িতে না থাকার সুযোগে তাঁর নাতনিকে (জামিলা) যৌন হয়রানির চেষ্টা করেন। এতে জামিলা প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হন ও তাঁকে চড় মারেন। সেখান থেকে শরীফ অপমানিত হয়ে ফিরে আসেন।

এর কয়েক দিন পর ঘটনার দিন (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে শরীফ আবারও জামিলাদের বাড়িতে যান। এবার তিনি দাদি সুফিয়া খাতুন ও নাতনি জামিলার কাছে আগের ঘটনার জন্য ক্ষমা চান।

তবে সুফিয়া খাতুন তাঁকে ক্ষমা না করে চিৎকার করতে থাকেন। এতে শরীফ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং পাশে পড়ে থাকা একটি কাঠের বাটাম দিয়ে প্রথমে সুফিয়া খাতুনের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করেন। এতে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে জামিলা ভয়ে চিৎকার করতে শুরু করে। শরীফ তখন রাজমিস্ত্রিদের প্লাস্টার করার কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম দিয়ে জামিলার মাথায় ও কপালে আঘাত করেন। জামিলা মাটিতে পড়ে গেলে শরীফ তাকে টেনেহিঁচড়ে বাড়ির পাশের একটি খোলা সরিষাখেতে দিকে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে গলা টিপে মৃত্যু নিশ্চিত করে লাশ সরিষাখেতে ফেলে পালিয়ে যান।

এ বিষয়ে পাবনা ডিবির ইন্সপেক্টর রাশিদুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনে পাবনা ডিবি একটি বিশেষ দল তদন্ত শুরু করেছে। তারা তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজন হিসেবে শরীফকে শনিবার রাত ১০টার দিকে আটক করে।

ডিবি কার্যালয়ে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তিনি অপরাধ স্বীকার করেন এবং হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দেন। পরে গোয়েন্দা পুলিশ তাঁকে ভবানীপুর এলাকায় এনে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্রসহ বেশ কিছু আলামত উদ্ধার করে।

উল্লেখ্য, গতকাল সকালে উপজেলার ভবানীপুর গ্রামে বাড়ির উঠানে দাদি সুফিয়া বেগমের রক্তাক্ত লাশ দেখতে পান স্বজনেরা। এরপর বাড়ি থেকে কিছু দূরে সরিষাখেতে নাতনি জামিলা খাতুনের (১৬) লাশ খুঁজে পান তাঁরা। স্থানীয়দের ধারণা শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো একসময় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সুফিয়া বেগম ওই গ্রামের মৃত নাজিম উদ্দিন খাঁর স্ত্রী। আর জামিলা উপজেলার কালিকাপুর দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী ও হাফেজা ছিল। তার বাবার নাম জয়নাল উদ্দিন খাঁ। দাদি ও নাতনি একই বাড়িতে থাকতেন।

আরও পড়ুন:

ধর্ষণে বাধা পেয়ে দাদি-নাতনিকে হত্যা করে শরিফুল

দাদি-নাতনি হত্যা: অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা, দুই সন্দেহভাজন আটক

দাদি-নাতনি হত্যার ক্লু হাতে পেয়েছে পুলিশ: অতিরিক্ত ডিআইজি

চাটমোহরে এবার জামায়াতের ২২ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে বিএনপির মামলা

ঈশ্বরদীতে বাড়ির ফটকে দাদির রক্তাক্ত লাশ, অদূরে সরিষাখেতে নাতনির বিবস্ত্র মরদেহ

প্রতিবন্ধী রায়হানের কাঁধে সংসারের ভার

গ্রিসে পাঠানোর নামে ইরানে আটকে ৯ যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ, মুক্তিপণ আদায়

চাটমোহরে টেন্ডার ঘিরে সংঘর্ষ: বিএনপির ৯ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

ঈশ্বরদীতে গাজর লুটের মামলায় দুই যুবদল কর্মী গ্রেপ্তার

সাঁথিয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১