ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক জনতার জমিন পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক জাবেদ আলম কিরণকে অপহরণ করে হত্যাচেষ্টা, প্রাণনাশের হুমকি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ প্রচারণার অভিযোগে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি।
শনিবার (২০ জুন) দুপুরে নোয়াখালী প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন জাবেদ আলম কিরণ।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ঢাকা ও সোনাইমুড়ীকে কেন্দ্র করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছে। ব্যক্তিগত সম্পর্কের সূত্রে ওই চক্রের এক সদস্য তাঁর কাছ থেকে অর্থ ধার নিলেও পরে তা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান। পাওনা টাকা চাইতে গেলে ২০২৫ সালের শুরুতে তাঁকে ঢাকা থেকে অপহরণ করে দুই দিন আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও দাবি করেন, পরবর্তী সময়ে তাঁর অজান্তে গাড়িতে জিপিএস ট্র্যাকার স্থাপন করে গতিবিধি নজরদারি করা হয় এবং ঢাকা, সোনাইমুড়ীসহ বিভিন্ন স্থানে তাঁর ওপর হামলার চেষ্টা চালানো হয়।
জাবেদ আলম কিরণ বলেন, সম্প্রতি তাঁকে, তাঁর মা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যকে নিয়ে ফেসবুকে অশালীন ভাষায় কটূক্তি করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।
এসব ঘটনায় গত বছরের ডিসেম্বরে সোনাইমুড়ী থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বলে জানান তিনি। তবে ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও এ বিষয়ে কার্যকর কোনো প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে যেকোনো সময় তাঁর বা পরিবারের সদস্যদের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।
এ ঘটনায় তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, জিডি ও হুমকির অভিযোগের বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।