নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার বিচারের দাবিতে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল ও ক্লাস বর্জন করে বিদ্যালয়ে তালা লাগিয়ে দিয়েছে বিদ্যালয়ের সহপাঠীরা। সেই সঙ্গে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সোনাইমুড়ী-আমিশাপাড়া সড়ক অবরোধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা। পরে অভিযুক্ত শিক্ষককে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, শিক্ষা কর্মকর্তারা। পরে এ আশ্বাসে ওপর ভিত্তি করে বিক্ষোভ স্থগিত করে শিক্ষার্থীরা।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত সোনাপুর ইউনিয়নের কালিকাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক নিতাই চন্দ্র দেবনাথ।
ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, ওই বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক নিতাই চন্দ্র দেবনাথ প্রতিদিন সকালে বিদ্যালয়ের পাশের একটি কক্ষে ১০ জন ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়াতেন। সোমবার সকালে প্রাইভেট শেষে অন্য ছাত্রীদের চলে যেতে বলে ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীকে থাকতে বলেন তিনি। সবাই চলে যাওয়ার পর শিক্ষক নিতাই জোরপূর্বক ওই ছাত্রীর বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন এবং তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। পরে কৌশলে ওই কক্ষ থেকে বের হয়ে বিষয়টি তার সহপাঠী ও পরিবারের লোকজনকে জানায় ভুক্তভোগী। পরে তারা বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে জানালেও তিনি এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেননি এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেননি। ফলে মঙ্গলবার বিষয়টি পুরো বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে জানাজানি হলে তাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। ক্লাস বর্জন করে বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিদ্যালয়ের সামনে গিয়ে সোনাইমুড়ী-আমিশাপাড়া সড়কে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে তারা।
এ বিষয়ে সোনাইমুড়ী-চাটখিল সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুল হাসান রাজিব বলেন, ‘যৌন নির্যাতনের ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’