নোয়াখালীতে গৃহবধূ নাজমুন নাহারকে (৩৫) ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি, এক জোড়া কানের দুল, এক জোড়া রুপার নূপুর ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার কুমিল্লার লালমাই ও বসুরহাট বাজার থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা হলেন জেলার কবিরহাট উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের চর নলুয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম (২৮) ও নিজাম উদ্দিন শান্ত (২৫)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চুরি করতে ঘরে ঢুকে স্বর্ণালংকার লুটের পর ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করে হত্যার কথা তাঁরা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আজ বুধবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন জেলা পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম। এ সময় তিনি জানান, নাজমুন নাহারের স্বামী নুরুল আমিন জেলার কবিরহাট উপজেলার একটি নার্সারিতে চাকরি করতেন। গত বছরের ১১ ডিসেম্বর বাড়িতে একা ছিলেন নাজমুন নাহার। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী চুরি করতে ওই রাতে সিঁধ কেটে তাঁর ঘরের ভেতরে প্রবেশ করেন আসামিরা। ঘরে মানুষের উপস্থিতি টের পেয়ে জেগে উঠলে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাঁর কানের দুল, রুপার নূপুর ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন আসামিরা। এরপর তাঁকে ধর্ষণ করা হয়।
একপর্যায়ে চিনে ফেলার কারণে হাত-পা বেঁধে তাঁর গলায় ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় আসামিরা। পরদিন ১২ ডিসেম্বর ভোরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে পরে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পাঠানো হয়। সেখানেই গত ১৯ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম আরও জানান, এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর স্বামী নুরুল আমিন বাদী হয়ে সুধারাম মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর এ নিয়ে তদন্তে নামেন গোয়েন্দা সদস্যরা। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গতকাল মঙ্গলবার প্রথমে কুমিল্লার লালমাই থানার মেহেরকুল এলাকা থেকে নিজাম উদ্দিনকে এবং পরে জেলার বসুরহাট বাজার থেকে জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করা হয়।