চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে কার্গো জাহাজের ধাক্কায় মাছ ধরার ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ দুই জেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভোরে চট্টগ্রামের আকমল আলী ঘাটসংলগ্ন নদী থেকে স্থানীয়রা তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে পুলিশ মরদেহ দুটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহত দুই জেলে হলেন নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার তমরুদ্দি ইউনিয়নের মোস্তফার ছেলে মিরাজ উদ্দিন (৩২) এবং একই উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের চরচেঙ্গা গ্রামের জয়নাল আবেদিনের ছেলে শরীফ উদ্দিন।
এর আগে রোববার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৪টার দিকে চট্টগ্রামের আকমল আলী ঘাটসংলগ্ন কর্ণফুলী নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রলারটিতে থাকা তিন জেলের মধ্যে একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও নিখোঁজ হন অন্য দুজন।
দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফেরা জেলে কামাল উদ্দিন জানান, চার দিন আগে মাছ ধরার কাজে ব্যবহারের জন্য একটি লালবোট কিনতে তাঁরা চট্টগ্রামের বন্দরটিলা এলাকায় যান। ট্রলারটি কেনার পর রোববার রাতে সেটি নিয়ে হাতিয়ার উদ্দেশে রওনা হন তাঁরা। ফেরার পথে আকমল আলী ঘাটসংলগ্ন কর্ণফুলী নদীতে পৌঁছালে ট্রলারটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এতে নদীর স্রোতে ট্রলারটি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। এ সময় পেছনে থাকা একটি কার্গো জাহাজের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ট্রলারটি ডুবে যায়।
কামাল উদ্দিন আরও জানান, দুর্ঘটনার সময় তিনি জাহাজের শিকল ধরে ঝুলে থাকেন। পরে জাহাজের লোকজন তাঁকে উদ্ধার করেন। তবে ট্রলারে থাকা অপর দুই জেলে মিরাজ উদ্দিন ও শরীফ উদ্দিনের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।
নিখোঁজ শরীফ উদ্দিনের সন্ধানে চট্টগ্রামে যাওয়া তাঁর চাচা চেম্পার উদ্দিন জানান, মঙ্গলবার সকালে তাঁরা দুই জেলের মরদেহ উদ্ধারের খবর পান। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ দুটি শনাক্ত করেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ নিয়ে হাতিয়ার উদ্দেশে রওনা হবেন বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পারভেজ আলম বলেন, মঙ্গলবার সকালে স্থানীয়দের সহযোগিতায় কর্ণফুলী নদী থেকে দুই জেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে নিয়ম অনুযায়ী মরদেহ দুটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দুটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।