তীব্র শীতে কাবু হয়ে পড়েছে নীলফামারীর জনজীবন। ঘন কুয়াশা আর উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা হিম বাতাসে কমছে তাপমাত্রা। কয়েক দিন ধরে ১০ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে তাপমাত্রা ওঠানামা করছিল। আজ মঙ্গলবার তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রির ঘরে নেমে গেছে। মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে উত্তরের জেলাটিতে। তীব্র ঠান্ডায় জেলার শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।
ডিমলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সবুর আজকের পত্রিকাকে বলেন, মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় নীলফামারীর ডিমলায় মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ। বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার। এর আগের দিন ডিমলায় সর্বনিম্ন ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।
তীব্র শীতের মধ্যে কাজে বের হতে গিয়ে দুর্ভোগে পড়ছেন খেটে খাওয়া মানুষ। ঠান্ডার কারণে অনেকেই কাজ পাচ্ছেন না। তাঁদের রোজগার কমে গেছে। ডিমলার তিস্তা নদীর চরের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম বলেন, কনকনে ঠান্ডা ও কুয়াশায় ঢেকে আছে চারদিক। চারদিন ধরে রোদের দেখা মেলেনি। ঠান্ডার কারণে কাজ করাও কষ্টের হয়ে গেছে।
নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান গভীর রাতে রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম, বাস টার্মিনাল এবং শহরের বিভিন্ন ফুটপাতে আশ্রয় নেওয়া ছিন্নমূল মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ করছেন। তিনি বলেন, ‘শীতের কনকনে ঠান্ডায় সবচেয়ে বেশি কষ্ট পান অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষ। তাঁদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব।’ তিনি সমাজের বিত্তবান ও সামাজিক সংগঠনকে শীতার্ত মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।