হোম > সারা দেশ > নেত্রকোণা

নেত্রকোনায় ৯ হাজার হেক্টর জমির ধান পানির নিচে, দুই নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে ডুবে যাওয়া ধান কাটছেন কৃষকেরা। আজ শুক্রবার নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার ডিঙাপোতা হাওরে। ছবি: আজকের পত্রিকা

ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনায় ৯ হাজার ৬২৫ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে আছে। এদিকে জেলার কংস নদের পানি বিপৎসীমার ১ দশমিক ১২ সেন্টিমিটার এবং উপদাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ৮২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া সোমেশ্বরী, ধনু, মগড়া, মহাদেওসহ সবগুলো নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

আজ শুক্রবার (১ মে) বেলা ৩টার দিকে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির এই তথ্য জানা গেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত কলমাকান্দা, মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুরী, মদন, আটপাড়া, কেন্দুয়া, সদর, বারহাট্টাসহ বিভিন্ন উপজেলার ৯ হাজার ৬২৫ হেক্টর খেতের ফসল পানিতে ডুবে যায়। তবে গতকাল সকাল থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় পানি আর বাড়েনি। কৃষকেরা এখন বেশ কিছু খেতের ধান কেটে ফেলছেন। এখনো ৮ হাজার ৫৩৪ হেক্টর জমির ধান নিমজ্জিত আছে। তবে স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, তলিয়ে যাওয়া জমির পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ।

কৃষি বিভাগ, পাউবো, উপজেলা প্রশাসন ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে জেলার হাওরাঞ্চলসহ নিচু এলাকায় পানি জমে খেতের পাকা বোরো ধান ডুবে যায়। জেলায় এবার ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৪৭ হেক্টর খেতে বোরো আবাদ করা হয়। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১৩ লাখ ২১ হাজার ৭৩২ টন ধান। এর মধ্যে হাওরে ৪১ হাজার ৬৫ হেক্টর খেতে বোরো আবাদ করা হয়। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ২ লাখ ৯২ হাজার ৫৯০ টন। কিন্তু গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত পানিতে ৯ হাজার ৬২৫ হেক্টর খেতের ধান তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে শুধু খালিয়াজুরী উপজেলায় ৪ হাজার ৯৮৫ হেক্টর জমির পাকা ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, সরকারি হিসাবের চেয়ে দ্বিগুণ খেতের ধান তলিয়ে গেছে। হাওরে ফসল রক্ষার জন্য এ বছর ৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। অবশ্য বাঁধের কারণে এখন পর্যন্ত পাহাড়ি ঢলের পানি হাওরে প্রবেশ করেনি।

খালিয়াজুরী উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের গ্রামের কৃষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, এবার বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে খেতের ধান তলিয়ে গেছে। হাওরের অধিকাংশ জলকপাট (স্লুইসগেট) অকেজো। নালা-খাল ও নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি নামতে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ফসল ডুবে এই বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। হাওরে এখনো অর্ধেক ধান কাটার বাকি। এ ছাড়া গবাদিপশুর জন্য খড় শুকানো যায়নি।

আরেক কৃষক শফিকুল ইসলাম জানান, হাওরাঞ্চলে সারা বছরে এই একটিমাত্র বোরো ফসলের ওপর কৃষকেরা নির্ভরশীল। একবার ফসলহানি ঘটলে কৃষকদের ওপর বিপর্যয় নেমে আসে। এই বোরো ধানের ওপর নির্ভর করে কৃষকদের সারা বছরের সংসার খরচ, চিকিৎসা, সন্তানদের পড়ালেখা ও আচার অনুষ্ঠানসহ সবকিছু হয়।

মোহনগঞ্জ উপজেলার তেতুলিয়া গ্রামের কৃষক জামাল মিয়া বলেন, ডিঙাপোতা হাওরে ২০ একর জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছেন। এর মধ্যে মাত্র ৬ একর খেতের ধান কাটা হয়েছে। বাকি ধান পানির নিচে। একই গ্রামের কৃষক সাইদুর মিয়া বলেন, ‘হাওরে আবাদ করা ১০ একর জমির মধ্যে মাত্র ৩ একর জমির ধান কাটতে পারছিলাম। আর সব ধান পানিতে নষ্ট হইয়া গেছে। কোনো খড়ও শুকাইতে পারছি না। গরুগুলো বিক্রি করা ছাড়া কোনো পথ নেই।’

খালিয়াজুরী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৫২ শতাংশ খেতের ধান কাটা হয়েছে। ৪ হাজার ৯৮৫ হেক্টর জমির ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়ে আছে। পানি বাড়লে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।

মদন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, উপজেলায় ১৭ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়। তবে এ পর্যন্ত ৬৮ শতাংশ খেতের ধান কাটা হয়ে গেছে।

কলমাকান্দা উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, তাঁর উপজেলায় এ পর্যন্ত ১ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।

মদনের কুলিহাটি গ্রামের কৃষক নয়ন মিয়া বলেন, ‘আমাদের অর্ধেক ধান পানির নিচে। যে জমিতে ধান এখনো ডুবছে না, সে ধান কাটনের জন্য ২ হাজার টাকা রোজ দিয়েও লোক পাওয়া যাইতাছে না। খুবই বিপদে আছি। চোখের সামনে এভাবে সর্বনাশ হচ্ছে।’

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হাওরে এখনো সব কটি বেড়িবাঁধ ঠিক আছে। বাঁধ যাতে না ভাঙে সে বিষয়ে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এবার বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে এমন সমস্যা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, এবার বৃষ্টির জমাটবদ্ধ পানিতে হাওরাঞ্চলে ধান তলিয়েছে। এ পানি বের হওয়ার কোনো পথ নেই। হাওরের বিভিন্ন নালা, খালসহ নদ-নদীতে পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় এই দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে পানি যদি আর না বাড়ে, আশা করা যায় বড় ধরনের কোনো ক্ষতি হবে না।

দুর্যোগে সহকর্মীর পাশে আনসার বাহিনী, কাটা হলো এক একর জমির ধান

নেত্রকোনায় ব্যবসায়ীকে হত্যার দায়ে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড

পাহাড়ি ঢলে পানি বাড়ছে সোমেশ্বরীতে, কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ

নেত্রকোনায় বজ্রপাতে ৩ জনের মৃত্যু

মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে নিহত একজন

নেত্রকোনায় জামায়াত এমপির ওপর হামলা, বিএনপি-ছাত্রদলের তিন নেতা বহিষ্কার

নেত্রকোনায় জামায়াতের এমপিকে অবরুদ্ধ, গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৯

নেত্রকোনায় জামায়াত এমপি অবরুদ্ধ-গাড়ি ভাঙচুর, বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ

নেত্রকোনায় চিকিৎসায় অবহেলায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ

দুপক্ষের সংঘর্ষে গৃহবধূ নিহত, আহত ১০