নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার বড়কাশিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজব আলী। স্ত্রী ও সন্তান থাকার পরও সম্প্রতি তিন সন্তানের এক জননীকে নিয়ে পালিয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় ওই নারীর স্বামী আদালতে আজব আলীর বিরুদ্ধে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করলেও আজব আলী জানিয়েছেন, ওই নারী স্বেচ্ছায় তাঁর সঙ্গে পালিয়ে এসেছেন।
৬ জুলাই আদালতে অভিযোগ করেন ওই নারীর স্বামী সাজেদ মিয়া। তিনি উপজেলার বড়তলী-বানিয়াহারী ইউনিয়নের বানিয়াজোড়া গ্রামের বাসিন্দা।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৩ বছর আগে সাজেদ মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় ওই নারীর। তাঁদের সংসারে দুই মেয়ে ও এক ছেলেসহ তিন সন্তান রয়েছে। ছোট মেয়ের বয়স ১১ মাস। ওই নারী বাবার বাড়ি মধুপুর গ্রামে বেড়াতে গেলে প্রতিবেশী আজব আলী তাঁকে কুপ্রস্তাব দিয়ে বিরক্ত করতেন। এতে রাজি হচ্ছিলেন না তিনি। মধুপুরে অবস্থানকালে ৪ জুলাই মধ্যরাতে পাটশলার বেড়া কেটে ঘরে ঢুকে ওই গৃহবধূকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যান আজব আলী। এ সময় বাধা দিলে ওই নারীর বাবা বকুল মিয়াকে গলায় ছুরি ধরে হত্যার হুমকি দেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার পর থেকে তাঁকে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে ধর্ষণ করা হচ্ছে।
অভিযোগটি আমলে নিয়ে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) মামলা রেকর্ড ও আসামি গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি ভিকটিমকে উদ্ধারের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ রোববার মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আজব আলী এই প্রতিনিধিকে বলেন, ‘রাবিয়াকে জোর করে নিয়ে যাওয়া হয়নি। তিনি স্বেচ্ছায় আমার সঙ্গে এসেছেন। এর আগেও দুইবার আমার সঙ্গে চলে এসেছিলেন, পরে পরিবারের সদস্যরা বুঝিয়ে নিয়ে যান।’ এবার তাঁরা বিয়ে করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তিন সন্তানের জননী ওই গৃহবধূও মোবাইল ফোনে বলেন, ‘সন্তানদের রেখে আমি স্বেচ্ছায় আজব আলীর সঙ্গে চলে এসেছি। আমরা বিয়ে করেছি। অনেকে কল করে ফিরে যাওয়ার জন্য বলেছিল, কিন্তু যাব না বলে দিয়েছি।’
এদিকে আজব আলীর দলীয় পরিচয় নিশ্চিত করে বড়কাশিয়া-বিরামপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হবি মিয়া বলেন, ‘পালিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা সত্য। এ ঘটনার পর এলাকার ৫০-৬০ জন বাসিন্দা লিখিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছেন। বিষয়টি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ দলের ঊর্ধ্বতন নেতাদের জানানো হয়েছে। তাঁর এমন কর্মকাণ্ডে আমরা বিব্রত।’
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির বলেন, অভিযোগটি আমলে নিয়ে মোহনগঞ্জ থানার ওসিকে মামলা রেকর্ড ও আসামি গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি ভিকটিমকে উদ্ধারের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজকেই আদেশটি মোহনগঞ্জ থানায় পৌঁছার কথা।
মোহনগঞ্জ থানার ওসি মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনা এখনো আমার হাতে পৌঁছায়নি। নির্দেশনা পাওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’