নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার নিহত ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলামের (৩২) পরিবার এখন নিরাপত্তা-সংকটে রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এ কথা জানানো হয় মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুলের কাছে।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রতিমন্ত্রী পুতুল গুরুদাসপুর পৌরসভার খামারনাচকৈড় মহল্লায় নিহত শাকিলের বাড়িতে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে যান। এ সময় পরিবারের সদস্যরা তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকির কথা জানান।
নিহত শাকিলের ভাবি সুমি খাতুন জানান, শাকিল যখন মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন, তখনো গভীর রাতে সন্ত্রাসীরা তাঁদের বাড়ির পাশে এসে টিনে ধাক্কা মারত। বাড়ির পাশে হাঁটাহাঁটি করত। এভাবে তাঁদের ভয় দেখানো হতো। তাঁর স্বামী বিদেশে। এখন বাড়িতে পুরুষ বলতে থাকবেন শুধু তাঁর শ্বশুর। এখন তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় আছেন।
ওই সময় সেখানে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন গুরুদাসপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রিয়াজুল হাসান। প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে নির্দেশনা দেন, এই মহল্লায় যাতে পুলিশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। বিশেষ করে পুলিশের গাড়ি যাতে সব সময় টহল দেয়, তিনি সেই নির্দেশনা দেন।
পুতুল পরে সাংবাদিকদের বলেন, শাকিল দলের জন্য একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতা ছিলেন। তাঁর এমন হত্যাকাণ্ড মেনে নেওয়া যায় না। তিনি শাকিলের পরিবারের পাশে আছেন। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পাশে থাকবেন, যাতে পরে এই পরিবারের সামনে নিজের মুখ দেখাতে পারেন।
প্রতিমন্ত্রী পুতুল বেরিয়ে যাওয়ার পরই ওই বাড়িতে যান ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। তিনি শাকিলের বাবা রবিউল করি, মা শাহানা বেগম, স্ত্রী হাফসা খাতুন ও ভাবি সুমি খাতুনের সঙ্গে কথা বলেন। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিতে ছাত্রদল সব সময় পাশে থাকবে বলে তাঁদের আশ্বস্ত করেন।
গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম ১৪ অক্টোবর রাতে এক হামলায় গুরুতর আহত হন। পরে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৬ অক্টোবর রাতে মৃত্যুবরণ করেন। এ নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন।
এদিকে শাকিল হত্যা মামলায় নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে গ্রেপ্তার করে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তদন্তে অবহেলার অভিযোগে গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
শাকিলের পরিবারের নিরাপত্তা-সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে গুরুদাসপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রিয়াজুল হাসান বলেন, পরিবারের সদস্যরা প্রতিমন্ত্রীর কাছে নিরাপত্তা-সংকটের কথা বলেছেন। প্রতিমন্ত্রী এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। আমি বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব। ওই এলাকায় পুলিশের টহল বৃদ্ধি করা হবে। প্রয়োজন হলে বাড়িতেও পুলিশ মোতায়েন করা হবে।