নরসিংদীর পলাশে বালু ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেনকে অপহরণ, মারধর ও কান কামড়ে জখম করার ঘটনায় ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মহিউদ্দিন চিশতিয়াকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলায় আরও ১৫-২০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল-মামুন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে মেসার্স সজীব ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. সজীব মিয়া বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে মহিউদ্দিন চিশতিয়াকে। এ ছাড়া জামাল (৪১), জনি (৩২), আনোয়ার (৪৩), শফিক (৩৭), আমিনুল (৪০), সোহেল (৩৮), জুয়েল (৩৫), মানিক (৪০), রায়হান (৩৪) ও রিজন (৩৭)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, বাদী সজীব মিয়া একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বালু, ইট ও রড সরবরাহের কাজ পেয়ে সাখাওয়াত হোসেনকে ড্রেজার মেশিন ও পাইপ ভাড়াসহ কাজের দায়িত্ব দেন। ১৩ জুলাই বিকেলে ঘোড়াশালের টেকপাড়া এলাকায় বাংলাদেশ জুট মিলসের ভেতরে নদীর পাড়ে ড্রেজার মেশিন স্থাপনের সময় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল ব্যক্তি সেখানে গিয়ে কাজ বন্ধ করে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
সাখাওয়াত হোসেন চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁর মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে তাঁকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময় ড্রেজার মেশিনের পাইপ কুপিয়ে ও ভেঙে প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, পরে সাখাওয়াতকে মহিউদ্দিন চিশতিয়ার বাড়ির উঠানে নিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। একপর্যায়ে মহিউদ্দিন চিশতিয়া তাঁর কানে কামড় দিয়ে গুরুতর জখম করেন এবং গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন। পরে তাকে দক্ষিণ চরপাড়া এলাকায় রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যাওয়া হয়।
স্থানীয়রা খবর পেয়ে সাখাওয়াত হোসেনকে উদ্ধার করে পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল-মামুন জানান, এ ঘটনায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১৫-২০ জনকে অজ্ঞাত আসামি দিয়ে মামলা করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।