হোম > সারা দেশ > নরসিংদী

রায়পুরায় সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৪, নিখোঁজ বুলবুলের খোঁজ মেলেনি ৫ দিনেও

রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি 

মোস্তাফা মিয়া। ছবি: সংগৃহীত

নরসিংদীর রায়পুরায় পূর্ববিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোস্তাফা মিয়া (৪০) মারা গেছেন। আজ রোববার দুপুরে ঢাকার সিটি কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এ নিয়ে ১৬ জুনের ওই সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়িয়েছে। ঘটনার পাঁচ দিন পরও বুলবুল মিয়া নামে একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

নিহত মোস্তাফা মিয়া নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের অহিদ মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় একটি ওয়ার্কশপের কর্মচারী ছিলেন। তিনি নাজিম উদ্দিন গ্রুপের সমর্থক ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ববিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত ১৬ জুন ভোরে উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর, দড়িগাঁ ও আশপাশের এলাকায় স্থানীয় নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সি গ্রুপের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন এলাকা ছাড়া থাকা আলাল মুন্সি ও জবা মেম্বারের অনুসারীরা স্পিডবোটে এলাকায় প্রবেশ করে ভাড়াটিয়া অস্ত্রধারীদের সহযোগিতায় নাজিম উদ্দিনের সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। জবাবে নাজিম উদ্দিনের অনুসারীরাও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

সংঘর্ষে উভয় পক্ষ আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় অস্ত্র ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ব্যবহার করে। ভোর ৪টা থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষ কয়েক দফায় সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলে। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সংঘর্ষের সময় মাথায় গুলিবিদ্ধ হন মোস্তাফা মিয়া। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে আজ সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এর আগে সংঘর্ষের দিন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন নাজিম উদ্দিন গ্রুপের সমর্থক অনিক মিয়া (২০)। ঘটনার পরদিন ১৭ জুন নরসিংদীর সদর উপজেলার মাধবদী থানার চরদিঘলদী ইউনিয়নের জিৎরামপুর এলাকার মেঘনা নদী থেকে টেঁটাবিদ্ধ অবস্থায় কাউছার মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ১৮ জুন সকালে নিলক্ষার গোবিনাথপুর এলাকার মেঘনা নদীর পাড় থেকে পুলিশের ভেস্ট পরিহিত প্রবাসফেরত আব্দুল লতিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এদিকে সংঘর্ষের পর থেকেই নিখোঁজ স্থানীয় মোটরসাইকেল মেকানিক বুলবুল মিয়া। পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও বুলবুল মিয়ার কোনো সন্ধান মেলেনি। তাকে জীবিত বা মৃত উদ্ধারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তার স্বজনরা।

সংঘর্ষের পর এলাকায় উভয় পক্ষের বাড়িঘরে ভাঙচুর, লুটপাট ও আতঙ্কের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এখনও অনেক পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলেও তারা দাবি করেছেন।

রায়পুরা থানায় অনিক হত্যা ঘটনায় নিহতের মা ৩০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। বাকি তিনটি মৃত্যুর ঘটনায় এখন পর্যন্ত পৃথক কোনো মামলা হয়নি।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান বলেন, “গুলিবিদ্ধ মোস্তাফা মিয়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ নিয়ে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা চারজনে দাঁড়িয়েছে। অনিক হত্যার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। অন্য তিনটি মৃত্যুর ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি।”

ওসি আরও বলেন, “এ পর্যন্ত সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।”

সংঘর্ষে টেঁটা ও গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন বকুল। তিনি বলেন, “হত্যায় যারা জড়িত, তাদের বিচার বাংলার মাটিতেই হবে। প্রতিটি হত্যার হিসাব কড়ায় গন্ডায় দিতে হবে। প্রত্যেকটি লাশের জবাব দিতে হবে।”

এ ব্যাপারে দুই পক্ষের প্রধান নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার পর থেকেই তারা আত্মগোপনে রয়েছেন।

শখের পাঁচ সিল্কি মুরগি থেকে সফল উদ্যোক্তা স্কুলশিক্ষক মোবারক

রায়পুরায় সংঘর্ষ: মেঘনা নদী থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার, নিহত বেড়ে ৩

রায়পুরায় ফের সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ আরও এক যুবকের মৃত্যু

রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ যুবক নিহত

নরসিংদীতে সারোয়ার হত্যা: আর্থিক বিরোধে খুন, গ্রেপ্তার ২

রায়পুরায় সজল হত্যা: মামলা নয়, সালিসে ২০ লাখ টাকা জরিমানার অভিযোগ

জমির বিরোধে তিন বছর গৃহবন্দী প্রতিবন্ধী কামরুন নাহার

আদ্‌-দ্বীন হাসপাতাল আমার পেছনে কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

‎রায়পুরায় বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনীতে প্রথম গোবিন্দপুর উচ্চবিদ্যালয়

নরসিংদীর শিবপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস খাদে, আহত অন্তত ২০